ঢাকা  বুধবার, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeঅর্থনীতিমূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ রাখতে লকার সুবিধা

মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ রাখতে লকার সুবিধা

নিউজ ডেস্ক : ব্যাংকের সেফ ডিপোজিট লকার মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদ রাখতে ব্যবহার করেন অনেকে। সাধারণভাবে স্বর্ণের গহনা, জমির দলিল, মেয়াদি আমানতের স্লিপসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং মূল্যবান জিনিসপত্র রাখার জন্য লকার ভাড়া নেওয়া হয়। প্রতিটি ব্যাংকের বাছাই করা কিছু শাখায় এ সুবিধা থাকে। আপনি যে ব্যাংকে লকার ভাড়া নিতে চান, সেখানে অবশ্যই একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ভল্ট। বহুস্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে লকার এলাকায় প্রবেশ করতে হয়। ভল্টের ভেতরে আলাদা রুমে থাকে লকার ব্যবস্থা। প্রতিটি ব্যাংকের লকারের মূল ফটকের চাবি শুধু ব্যাংকের নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে থাকে। এসব লকার খোলার জন্য অবশ্যই দুটি চাবির প্রয়োজন হয়, যার একটি গ্রাহক এবং অপরটি ব্যাংকের নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে থাকে। একক চাবি দিয়ে কখনোই এই লকার খোলা যায় না। আবার লকার আটকাতেও দুটি চাবির প্রয়োজন হয়।

ব্যাংকের লকার ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। দেশে নতুন করে এটি আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর লকার থেকে স্বর্ণ, নগদ ডলার, ইউরোর মতো সামগ্রী উদ্ধার করে তা জব্দের পর। তাঁর এ লকার ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

ব্যাংকের নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে থাকা চাবি ‘মাস্টার কি’ হিসেবে পরিচিত। প্রতি লকার খোলার সময় প্রথমে এই মাস্টার কি দিয়ে ঘোরাতে হয়। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তা সেখান থেকে বেরিয়ে এলে গ্রাহক নিজের চাবি দিয়ে লকার খোলেন। সেফ ডিপোজিট লকারে কী রাখা হচ্ছে, কোথাও ঘোষণা দেওয়ারও দরকার নেই। কৌটা, বাক্স বা কাপড়ে মুড়িয়ে যিনি ভাড়া নেন, তিনিই জানেন এতে কী আছে। লকার নেওয়ার সময় নির্দিষ্ট একটি ফরম পূরণ করে একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। প্রতিবার প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় একটি রেজিস্ট্রারে লিখতে হয়। সংরক্ষিত সম্পদের জন্য নিজের পছন্দের যে কোনো ব্যক্তিকে নমিনি করতে হয়। চাইলে যৌথভাবেও লকার ভাড়া নেওয়া যায়। কোনো কারণে চাবি হারিয়ে গেলে কাছের থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করে এরপর শাখাকে দ্রুত সময়ে জানাতে হয়।

প্রতিটি ব্যাংকে সাধারণভাবে ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের লকার থাকে। ব্যাংক ও আকারভেদে লকারের ভাড়া নির্ধারিত হয়। সরকারি ব্যাংকের লকার চার্জ তুলনামূলক কম। সাধারণত বার্ষিক হারে চার্জ নেয় ব্যাংক। ব্যাংকের লকারে কোনো ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য, নেশাজাতীয় দ্রব্য, টাকা-পয়সা রাখা যাবে না বলে চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে। অবশ্য গ্রাহক ছাড়া লকারের মালপত্র ও তার পরিমাণ সম্পর্কে ব্যাংকের জানার অবকাশ নেই। এমনকি গোপনীয় স্থান হিসেবে লকার রুমে ক্লোজ সার্কিট বা সিসি ক্যামেরাও রাখা হয় না। অবশ্য নিরাপত্তার জন্য লকার রুমে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে সিসি ক্যামেরা থাকে। এই সুযোগ নিয়ে অনেকেই স্বর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলের পাশাপাশি নগদ ডলার, ইউরোর মতো জিনিস রাখছে। সাধারণভাবে একজন ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণ শেষে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার নগদ রাখতে পারেন।

 

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular