ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশপিরোজপুরদুই শত বছর আগের ভাসমান বাজার

দুই শত বছর আগের ভাসমান বাজার

নিউজ ডেস্ক: নৌকায় ভেসে ভেসে যখন পণ্যদ্রব্যের হাঁকডাক পড়ে, তখন বোঝা যায় বৈঠাকাটার ভাসমান বাজারে আজ বাজারের দিন। সাপ্তাহিক এই দুদিন যেন ফিরে যায় দুই শত বছর আগের এক সরল, অথচ সমৃদ্ধ গ্রামীণ বাংলায়।

পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামে অবস্থিত এই ভাসমান বাজার শুধু একটি কেনাবেচার স্থান নয় এটি একটি ইতিহাস, একটি ঐতিহ্য, যেটি যুগের পর যুগ ধরে টিকে আছে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে একাকার হয়ে।

প্রায় দুইশত বছর আগে, যখন এই অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ বলতে কিছুই ছিল না, তখন নদী আর খালই ছিল যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রধান পথ। বৈঠাকাটার খালপাড়ে সেই সময়ে গড়ে ওঠে একটি বাজার, যা আজও ভাসমান অবস্থায় রয়ে গেছে।

বাজারটি মূলত খালের ওপরেই বসে। বিক্রেতারা নিজেদের পণ্য সাজিয়ে আনেন নৌকায় করে। কেউ বিক্রি করেন সবজি, কেউ চাল-ডাল বা মসলা। নৌকাগুলো কখনো নিজেই দোকান, কখনো আবার স্রেফ একটি চলন্ত প্ল্যাটফর্ম।

ক্রেতারাও কম যান না তাদের অনেকেই নিজস্ব নৌকা নিয়ে বাজারে আসেন। কেউবা পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকার সঙ্গে দরদাম করেন। দৃশ্যটি যেন বাংলার পুরনো জলপথ ভিত্তিক সমাজকে চোখের সামনে জীবন্ত করে তোলে।

এই বাজার ছিল কেবল পণ্যের লেনদেনের জায়গা নয়, ছিল এক সামাজিক মেলবন্ধনের ক্ষেত্র। আশেপাশের ১৫-২০টি গ্রামের মানুষ এখানে জমায়েত হতেন। আসতেন ফেরিওয়ালা, হস্তশিল্পী, কামার, কুমোর, এমনকি ছুতাররাও। তাদের কেউ বিক্রি করতেন নিজ হাতে বানানো জিনিস, কেউ আবার পুরনো ঘরের আসবাবপত্র মেরামত করে দিতেন নৌকাতেই। বাজারের দিনটি ছিল যেন এক বিশাল উৎসবের মতো।

তবে কালের প্রবাহে এখন অনেক কিছুই বদলে গেছে। আধুনিক সড়ক যোগাযোগ, সুলভ যানবাহন এবং আধুনিক বাজার ব্যবস্থার কারণে অনেকে আর আগের মতো আসেন না ভাসমান বাজারে। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ চলে গেছেন স্থলভিত্তিক বাজারে। বৈঠাকাটার ভাসমান বাজার আজও টিকে আছে, কিন্তু হারাতে বসেছে তার পুরনো জৌলুস।

আরো খবর
Continue to the category
- Advertisment -spot_img

Most Popular