ঢাকা  শনিবার, ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeখেলাটাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের ইতিহাস, জার্মানির বিদায়

টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের ইতিহাস, জার্মানির বিদায়

ক্রীড়া ডেস্ক :বল দখল, আক্রমণ আর সুযোগ; সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল জার্মানি।

কিন্তু প্যারাগুয়ের দুর্দান্ত রক্ষণ, গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের অনবদ্য পারফরম্যান্স এবং টাইব্রেকারের স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

বোস্টন স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে।
 
নকআউটের এ ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে চমকে দেয় প্যারাগুয়ে। প্রথম মিনিটে হুলিও এনসিসোর শট ডিফ্লেক্ট হয়ে কর্নার হলে সেখান থেকে হুলিও আলোনসোর দুর্দান্ত সাইকেল কিক অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন জার্মান গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার।
 
শুরুর ধাক্কা সামলে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জার্মানি। কাই হাভার্টজের পাস থেকে ডেনিজ উনদাভের চিপ অল্পের জন্য বাইরে যায়। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বিপজ্জনক ক্রস শেষ মুহূর্তে ক্লিয়ার করেন হুয়ান কানালে। ফিরতি বলে ভির্টজের দূরপাল্লার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
 
এরপর দীর্ঘ সময় বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও প্যারাগুয়ের সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে পারেনি জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। প্রথমার্ধে ৭৮ শতাংশ বলের দখল থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ খুব কমই তৈরি করতে পারে তারা।
 
৪২ মিনিটে ম্যাচের গতির বিপরীতে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। কর্নার থেকে নয়্যার বল ফিরিয়ে দিলেও পুনরায় আক্রমণ গড়ে তোলে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ডানপ্রান্তে মিগেল আলমিরনের পাস থেকে গালারজার নিচু ক্রসে ১২ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান হুলিও এনসিসো।
 
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে জার্মানি। ৫০ মিনিটে কিমিখের ভুল ব্যাকপাস কেটে নিয়ে এনসিসো গোলের সুযোগ পেলেও দ্রুত এগিয়ে এসে দুর্দান্ত সেভ করেন নয়্যার। চার মিনিট পরই সমতায় ফেরে জার্মানি। বক্সে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রস থেকে কাই হাভার্টজ শক্তিশালী হেডে বল জালে পাঠান।
 
সমতায় ফেরার পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে জার্মানি। ৫৬ মিনিটে হুয়ান কানালের দুর্দান্ত ব্লকে গোরেৎসকার নিশ্চিত গোল বেঁচে যায়। ৫৮ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গোলদাতা এনসিসো। এরপরও জার্মানির একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। ৭৮ মিনিটে ভির্টজের ক্রস থেকে হাভার্টজের শক্তিশালী হেডও দুর্দান্তভাবে ফিরিয়ে দেন তিনি।
 
নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১০২ মিনিটে কর্নার থেকে জোনাথন তাহ হেডে জার্মানিকে এগিয়ে দিলেও ভিএআরের সহায়তায় গোলটি বাতিল করা হয়, কারণ কর্নারের সময় প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের ওপর ফাউল করেছিলেন ভালদেমার আন্তন। ১১৯ মিনিটে আন্তনের কাছাকাছি দূরত্বের হেডও গোললাইন থেকে রুখে দেন গিল। ফলে অতিরিক্ত সময়েও সমতা ভাঙেনি।
 
টাইব্রেকারে শুরুতেই কাই হাভার্টজের শট ঠেকিয়ে দেন গিল। প্যারাগুয়ের হয়ে মৌরিসিও ও গুস্তাভো গোমেজ গোল করেন। জার্মানির হয়ে কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও নাদিয়েম আমিরি সফল হলেও নিক ভল্টেমাডের শটও রুখে দেন গিল। সানাব্রিয়া প্যারাগুয়ের হয়ে সুযোগ নষ্ট করলেও সাডেন ডেথে জোনাথন তাহের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর হোসে কানালে সফল স্পটকিকে ৪-৩ ব্যবধানে প্যারাগুয়েকে অবিস্মরণীয় জয় এনে দেন।
 
ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০ নম্বরে থাকা জার্মানিকে হারিয়ে ৪১তম স্থানে থাকা প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অঘটন উপহার দিল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাইব্রেকারে হারের স্বাদ পেল জার্মানি।
RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular