আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, এই প্রাণঘাতী হামলায় আরও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
রক্তক্ষয়ী এই পরিস্থিতির মুখে মালয়েশিয়া সরকারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাখাইনের কিয়কত শহরে বেসামরিক জনবসতি লক্ষ্য করে মায়ানমার জান্তাবাহিনী এই নির্বিচার হামলা চালায়।
সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি অভিযোগ করেছে, স্থানীয় বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করেছে সেনাবাহিনী। এর আগে গত ডিসেম্বরেও রাখাইনের একটি হাসপাতালে বোমা ফেলে অন্তত ৩০ জনকে হত্যা করেছিল জান্তাবাহিনী।
একদিকে মায়ানমার সরকারের সঙ্গে চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়া থেকে প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার প্রথম ধাপে গত মঙ্গলবার শিশুসহ দেড় হাজার রোহিঙ্গা মায়ানমার নৌবাহিনীর জাহাজে চড়ে রওনা দেন; ঠিক তখনই এই ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনা ঘটল।
সংঘাতময় এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যে অব্যাহত সহিংসতার ঘটনাপ্রবাহ এটাই স্পষ্ট করে যে, সেখানে রোহিঙ্গা ও অন্যান্য বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি।’
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মায়ানমারে গৃহযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।




