ঢাকা  , ;           সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeসারাদেশ২৯ বছরেও লক্ষ্মীপুর বিসিকে গড়ে ওঠেনি আশানুরূপ শিল্পকারখানা

২৯ বছরেও লক্ষ্মীপুর বিসিকে গড়ে ওঠেনি আশানুরূপ শিল্পকারখানা

গ্যাস-পানি সংকট, বেহাল সড়ক ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজে ভোগান্তি; ৯৯টি প্লটের বিপরীতে চালু ৩০ শিল্প ইউনিট

নাজমুল হোসেন, বিশেস সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরে প্রতিষ্ঠার ২৯ বছরেও আশানুরূপ শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) শিল্পনগরীতে। গ্যাস-পানি সংকট, বেহাল সড়ক, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার কার্যক্রম। প্লট বরাদ্দ নিয়েও এসব সমস্যার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে পারেনি। অথচ সস্তা শ্রম, দেশের ২১ জেলার সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা এবং কৃষিপণ্যের প্রাচুর্যের কারণে এ অঞ্চলে শিল্পায়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিসিক শিল্পনগরীতে উদ্যোক্তাদের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্যাস ও পানির সংকট, সড়কের খানাখন্দ, জলাবদ্ধতা, লোডশেডিং, সড়কবাতির অভাব এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা। এসব সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকায় ১৬ একর জমির ওপর ১৯৯৭ সালে শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বেকারত্ব দূর করা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গড়ে তোলা এ শিল্পনগরীতে ২০০০ সাল থেকে প্লট বরাদ্দ শুরু হয়। তিন ধাপে ৫৪টি শিল্প ইউনিটের জন্য ৯৯টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ৩০টি শিল্প ইউনিট চালু রয়েছে।

বেহাল সড়ক, জলাবদ্ধতা ও নিরাপত্তাহীনতা

লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীতে প্রবেশের মুখে নেই কোনো প্রধান ফটক বা সীমানাপ্রাচীর। ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও জমে থাকা পানি। ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের কারণে ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ধুলাবালিতে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে।

শিল্পনগরীর ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষা কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে থাকে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

এ শিল্পনগরীতে তেলকল, বেকারি, চকলেট তৈরির কারখানা, সয়াবিন প্রক্রিয়াকরণ, অটোরাইস মিল ও মবিল রিপ্যাকিং মিলসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।

কারখানার মালিক আব্দুর রহমান বলেন, বিসিক শিল্পনগরীর সড়কগুলোর বেহাল অবস্থা অব্যবস্থাপনার বড় উদাহরণ। সড়ক খারাপ হওয়ায় কারখানায় মালামাল আনা-নেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দুর্বল। বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলেও পয়োনিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেই। সব মিলিয়ে উদ্যোক্তাদের নানা সমস্যার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

মিতালি বেকারির কর্মচারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, শিল্পনগরীর সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। কিছু অংশ নিম্নমানেরভাবে সংস্কার করা হলেও কয়েক দিন পর আবার ভেঙে যায়। মাঝেমধ্যে সংস্কার করা হলেও তা টেকসই হয় না। ফলে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

ভাইয়া গ্রুপের অ্যাডমিন বেলাল হোসেন বলেন, শিল্পনগরীর ড্রেনগুলোতে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় মশা ও জীবাণুর বিস্তার ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এত বড় একটি শিল্পনগরীর অবস্থা এমন হওয়ার কথা নয়। যাতায়াতের দুরবস্থার কারণে এক কারখানা থেকে অন্য কারখানায় মালামাল পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে।

সমাধানের আশ্বাস বিসিক কর্তৃপক্ষের

এসব বিষয়ে বিসিক লক্ষ্মীপুরের শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. জুয়েল চৌধুরী বলেন, শিল্পনগরীতে একটি প্রধান ফটক নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। গত দুই অর্থবছরে সড়কের বেশ কিছু কাজ হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরে আরও কাজ হলে সড়কের সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তিনি আরও বলেন, নিজস্ব ডাম্পিং ইয়ার্ড নির্মাণের কাজ চলছে। পৌরসভার উদ্যোগে একটি ড্রেন নির্মাণের কাজও শেষের দিকে। শিল্পনগরীতে সড়কবাতি লাগানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। আগামী দুই অর্থবছরের জন্য দেওয়া প্রাক্কলন বাস্তবায়িত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

বিসিক কর্মকর্তা বলেন, উদ্যোক্তাদের শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা প্লট বরাদ্দ নিয়েও এখনো কাজ শুরু করতে পারেননি, তাঁদেরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular