ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মানববন্ধন, জমি দখল ও হত্যার হুমকির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা
রুবেল ফরাজী, মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরের শিবচরে জামায়াত নেতা তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কর্মসূচি শেষে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের একাংশ তাঁর বসতঘরে ভাঙচুর চালান। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের পশ্চিম চরকামারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাইজুল ইসলামকে ঘিরে এক নারীর সঙ্গে ধারণ করা একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে পশ্চিম চরকামারকান্দি ও আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা একত্র হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করেন।
জমি দখল ও হত্যার হুমকির অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর নাম ব্যবহার করে তাইজুল ইসলাম এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মানববন্ধনে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথা বলে তাইজুল ইসলাম গ্রামের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ কাঠা জমি নিয়ে নিজের নামে দলিল করে নিয়েছেন। তবে সেখানে মাদ্রাসা নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া, সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফেসবুক পোস্টে তাইজুলের দাবি, ফোন বন্ধ
এদিকে, তাইজুল ইসলাম তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর স্ত্রী।
তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি
এর আগে গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শিবচর উপজেলা শাখার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাইজুল ইসলামকে নিলখী ইউনিয়ন শাখার সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
ভাঙচুরের বিষয়ে জানেন না ওসি
বসতঘর ভাঙচুরের বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বসতঘর ভাঙচুরের বিষয়ে আমার এখনো জানা নেই। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
ভাঙচুরের ঘটনায় বসতঘরটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। স্থানীয়দের তোলা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।



