নিউজ ডেস্ক: বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার রেজা দীপকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৩১ অক্টোবর থেকে পরপর তিন দফায় টানা ৯ দিন রিমান্ডে নিয়ে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন।
আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া এবং রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নে নীরব থেকে কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর আগে তাহসিফকে সর্বশেষ দীপ ও জেরিকার সঙ্গে দেখা গেছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার সাউরির বান্ধবী জেসিকা তাসনিম দিশা রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।
দীপ ও ওই তরুণীর বক্তব্যের মিল-অমিল খতিয়ে দেখতে দুজনের বক্তব্য মেলানো (ক্রসচেক) প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটক রাখা আবশ্যক। আদালতে আসামির জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়।
শুনানিতে তার আইনজীবী বলেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে দীপ সব ধরনের তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। প্রতিবার রিমান্ডে নেওয়ার পর চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়ার কথা বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
মুলত সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় সে জড়িত নয়। দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করার অধিকার কারও নেই। পরিস্থিতির শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন দীপ। যে কোনো শর্তে তাকে জামিন দেওয়া হোক।
এদিকে সাউরির বান্ধবী জেসিকা তাসনিম দিশাকে দুই দফায় সাতদিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
গত ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় মঞ্জুর করা তিনদিন রিমান্ড শেষে শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এক প্রতিবেদনে দাখিল করে বলেন, নিহত তাহসিফের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় ওই তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্যপ্রমাণ মিলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পরবর্তী সময়ে তাকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এমতাবস্থায় তাকে কারাগারে আটক রাখা আবশ্যক। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে তার পক্ষে আদালতে জামিনের কোনো আবেদন করা হয়নি। পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরেরদিন বিকেলে তুরাগ নদীর রাজাবাড়ী ঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় ৩০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় আসামি অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে মামলা হত্যা মামলা করেন তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
রাতেই মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে দীপকে এবং ৩১ অক্টোবর রাতে কাফরুলের বাসা থেকে দিশাকে আটক করা হয়। পরে সন্দিগ্ধ হিসেবে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
উল্লেখ্য, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আর কাউকে আটক করার কোনো তথ্য তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া যায়নি।



