চারটি বসতঘরের ১১টি কক্ষ পুড়ে গেছে, জীবন্ত দগ্ধ হয়েছে একটি বানর; ক্ষতি ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা বলছে ফায়ার সার্ভিস
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে লাগা আগুনে বেদে সম্প্রদায়ের ১১ পরিবারের বসতঘর পুড়ে গেছে। আগুনে চারটি বসতঘরের ১১টি কক্ষ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিকলে বাঁধা একটি বানরও জীবন্ত দগ্ধ হয়েছে। এতে পরিবারগুলো বসতঘর ও মালামাল হারিয়ে বিপাকে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, তাঁদের অন্তত ৪০ লাখ টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে।
গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় জেলা নির্বাচন অফিসের পেছনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন নেভানোর সময় ইসমাত আরা নামে এক নারী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রওশন আলীর ঘরে তাঁর ছেলের বউ গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করছিলেন। এ সময় হঠাৎ সিলিন্ডারের মুখে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের আসবাবপত্রে। একপর্যায়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন পাশের ঘরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ও ফয়জুল আজিম বলেন, আগুনে চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এসব ঘরে রওশন আলী ও খলিলুর রহমানের ১১ ছেলে তাঁদের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। আগুনে তাঁদের সবকিছু পুড়ে গেছে। একটি বানরও জীবন্ত দগ্ধ হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘরে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল। আগুনে তাঁর নিজেরই ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অন্যরাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সবাই বেদে সম্প্রদায়ের। তাঁরা স্থায়ীভাবে বসতঘর তৈরি করে সেখানে বসবাস করতেন। বসতঘর ছাড়া তাঁদের আর কোনো সম্পদ ছিল না। আগুনে ১১টি পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছে।
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টাফ অফিসার মো. জসীম উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ১৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন চারটি বসতঘরের ১১টি কক্ষ পুড়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মেহেদী হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তার আশ্বাস দেন ইউএনও।



