• ঢাকা
  • বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৯ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

যশোর হত্যাকাণ্ডের দুই যুগপূর্তিতে উদীচীর কর্মসূচী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০৭ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১২:৫৯ পিএম
যশোর হত্যাকাণ্ডের দুই যুগপূর্তিতে উদীচীর কর্মসূচী
উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে

ষ্টাফ রিপোর্টার : ০৬ মার্চ যশোর হত্যাকাণ্ড-এর দুই যুগপূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। 'দুই যুগেও হয় না বিচার, এই লজ্জা ও অপমান কার'-- এই শ্লোগানকে ধারণ করে ৪, ৫ ও ৬ মার্চ তিনদিনের এ কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালিত হয় যশোরে। কর্মসূচির শেষ দিন অর্থাৎ ৬ মার্চ সোমবার যশোর টাউন হল ময়দানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে শুরু হয় সমাপনী কর্মসূচি।

বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, যশোর জেলা সংসদ, বরিশাল, খুলনা, গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা, মাদারীপুর, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলা ও শাখা সংসদের শিল্পী-কর্মীরা। এরপর মুখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদী মৌন মিছিল নিয়ে যশোর শহর প্রদক্ষিণ করে টাউন হল ময়দানে ফিরে আসেন বিভিন্ন জেলা থেকে সমবেত হওয়া উদীচীর শিল্পী-কর্মীরা। এরপর জাতীয় ও সংগঠন সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান। 

এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। উদীচী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি তন্দ্রা ভট্টাচার্য্য-এর সভাপতিত্বে এ পর্বে বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি বিশ্বনাথ দাসমুন্সি, সুখেন রায়, জামসেদ আনোয়ার তপন, ইকরামুল কবির ইল্টু, উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, সদস্য নাজমুল ইসলামসহ যশোরের স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

আলোচনা পর্বে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, ২৪ বছর ধরে উদীচী বারবার আবেদন নিবেদন করে গেছে যশোর হত্যাকাণ্ডের বিচার করার জন্য। কিন্তু কোনকিছুতেই কোন লাভ হয়নি। এই বিচার না হওয়ার জন্য রাষ্ট্রের সীমাহীন ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন তিনি। রাষ্ট্র এই বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই ১৯৯৯ সালের পর একে একে কমিউনিস্ট পার্টি, ছায়ানট, সারাদেশের সিনেমা হল, আওৃয়ামী লীগের জনসভাসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। অমিত রঞ্জন দে আরো বলেন, একথা জোর গলায় বলা যায় যে, যদি সঠিক সময়ে উদীচীর উপর বোমা হামলার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করা যেতো, তাহলে এদেশের মাটিতে আর কোন বোমা হামলার ঘটনা ঘটতো না। 

আলোচনা পর্বের পর শহীদদের স্মরণে মশাল প্রজ্জ্বালন করা হয়। এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পর্ব। এ পর্বে নানা ধরনের প্রতিবাদী পরিবেশনা নিয়ে মঞ্চে হাজির হন উদীচী যশোর জেলা সংসদসহ বিভিন্ন জেলা ও শাখা সংসদের শিল্পী-কর্মীরা। এছাড়া, বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত যশোর হত্যাকাণ্ডের শত ছবির প্রদর্শনীও ছিল। 

এর আগে, তিনদিনের কর্মসূচির প্রথম দিন ৪ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় ‘রং তুলিতে প্রতিবাদ’ শীর্ষক আয়োজনের উদ্বোধন করেন বোমা হামলায় নিহত নাজমুল হুদা তপনের বোন, নাজমুন সুলতানা বিউটি এবং বোমা হামলায় নিহত নূর ইসলামের স্ত্রী নূরজাহান বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলার ২৪ জন বরেণ্য চিত্রশিল্পী। তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন যশোরের প্রথিতযশা চিত্রশিল্পী মফিজুর রহমান রুনু। উদীচী যশোর জেলা সংসদের সভাপতি তন্দ্রা ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উদীচী যশোর জেলা সংসদের সহ-সভাপতি এবং যশোর হত্যাকাণ্ড দিবস-২০২৩ এর আহবায়ক আব্দুল আফফান ভিক্টর, যশোর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব। সঞ্চালনা করেন কাজী শাহেদ নওয়াজ। 

আলোচনা শেষে উদ্বোধকদ্বয় রং-তুলির আঁচড় দিয়ে ১ম দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরপর দিনব্যাপী প্রতিবাদী চিত্রকর্ম অঙ্কনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ তুলে ধরেন ২৪ জন বরেণ্য চিত্রশিল্পী। তাদের সাথে স্থানীয় শিশুশিল্পীরাও অংশগ্রহণ করে। এছাড়া, কবিতায় প্রতিবাদ তুলে ধরেন ১৫ জন বরেণ্য বাচিক শিল্পী। 

তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও শ্রেণি পেশার বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 
এছাড়া দেশের সব জেলা ও শাখায় যশোর হত্যাদিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। 

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস ও ভয়াবহ বোমা হামলারগুলোর অন্যতম যশোর বোমা হামলা। ১৯৯৯ সালের ০৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে আয়োজিত বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে গভীর রাতে যখন হাজারো জনতা ও সংস্কৃতিকর্মী বাংলার আবহমান সংস্কৃতির ধারক বাউল গানের সুর মূর্ছনায় বিমোহিত হয়েছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটে মঞ্চের নিচে আগে থেকে রেখে দেয়া বোমার। ধর্মান্ধ, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চালানো ওই হামলায় প্রাণ হারান নূর ইসলাম, সন্ধ্যা রানী, রামকৃষ্ণ, তপন, বাবুল সূত্রধরসহ অন্তত ১০ জন শিল্পী-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। আহত হন দেড় শতাধিক শিল্পী-কর্মী ও সংস্কৃতিমনা সাধারণ মানুষ। মৌলবাদী অপশক্তির ঘৃণ্য হামলার শিকার সেসব সংস্কৃতি কর্মী এখনও পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে নিয়ে জীবন যাপন করছেন। এটিই ছিল স্বাধীনতার পরে এদেশের মাটিতে প্রথম প্রকাশ্যে বোমা হামলার ঘটনা। 
 

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image