• ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ চৈত্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

সংকটে ডুবে আছে ইমানুয়েল মাখোঁর সরকার?


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৭:৫৩ পিএম
দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার
তোপের মুখেও পড়েছে মাখোঁ সরকার

নিউজ ডেস্ক:  জাতীয় সংসদে ভোটাভুটি ছাড়াই পেনশনসংক্রান্ত আইন সংস্কার করেছে ফ্রান্স। দেশটির সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। নতুন সংস্কারে অবসরকালীন বয়স ৬২ থেকে দুই বছর বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে কয়েক দিনব্যাপী গণবিক্ষোভ চলছে। সংসদ সদস্যদের তোপের মুখেও পড়েছে মাখোঁ সরকার।

সংবিধানের ৪৯.৩ অনুচ্ছেদবলে জরুরি প্রয়োজনে সংসদের ভোটাভুটি ছাড়াই দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে সরকার। প্রধানমন্ত্রী এলিজাবেথ বর্নি অনুচ্ছেদটি নিয়ে উপহাস করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ক্ষমতা সরকারকে সংসদ সদস্যদের মতামত এড়াতে সক্ষম করে। আমরা আমাদের পেনশনের ভবিষ্যতের ওপর বাজি ধরতে পারি না। অনুচ্ছেদটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’ 

রাজনীতিবিদ আলান দুহামেল বলেন, ‘এ ধরনের সংকট দেখে মনে হচ্ছে, সরকারে দুজন ফরাসি আছেন। যারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ আলাদা জগতের। এমনকি তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ অসম্ভব বলে মনে করেন।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটি এখন গণবিক্ষোভের মধ্যে এবং অস্থিরতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। প্রেসিডেন্ট মাখোঁর পদক্ষেপ অস্পষ্ট আশঙ্কার বার্তা দিচ্ছে। মনে হচ্ছে অশুভ শক্তি ফ্রান্সে ফিরে এসেছে এবং গভীর সংকটে ডুবে আছে দেশটি। পেনশনসংক্রান্ত বয়স সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে ক্ষোভ এবং পারস্পরিক মতবিরোধ সরকারের ভেতর ভঙ্গুরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকার বলছে, মানুষ দীর্ঘজীবী হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তহবিলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবসরকালীন বয়স ৬২ থেকে ৬৪ বছর করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার দুটি পদক্ষেপ নিতে পারে। পেনশনের পরিমাণ কমানো অথবা অবসরের সময়সীমা বাড়ানো। সমস্যা হলো উভয় সিদ্ধান্তই জনগণের কাছে সরকারের জনপ্রিয়তা কমাতে পারে।

প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানিয়েছেন, ফ্রান্স শুধু ইউরোপের অন্যান্য দেশের নিয়মকানুনের সঙ্গে নিজেকে সামঞ্জস্য করছে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশে চাকরি থেকে অবসরের বয়স প্রস্তাবিত আছে ৬৪ বছরেরও অধিক।

ডানপন্থী ও বামপন্থী উভয় দলের সমর্থকরাই মনে করেন, রাষ্ট্রীয় তহবিলের এমন অবস্থা তৈরি হয়নি যে পেনশনসংক্রান্ত নীতি বদলাতে হবে। এছাড়া পেনশনের অর্থায়ন এতটা আহামরি নয় যতটা সরকার দেখানোর চেষ্টা করছে। এজন্য সিদ্ধান্তটিকে অন্যায় মনে করছেন ফরাসিরা।

আন্দোলনের এ অবস্থায় সমস্যা ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই শুধু সংস্কার বাতিল নয় বরং অবসরকালীন বয়স কমিয়ে ৬০ বছর করার দাবি করছেন। ২০১০ সালের আগে যেমনটা ছিল।

বামপন্থী দল লা ফ্রান্স ইনসুমাইজের (এলএফআই) নেতা ম্যাথিল্ডে প্যানোট এক টুইট পোস্টে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট মাখোঁ সংসদীয় ভোটাভুটি ছাড়া এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশকে রাজনৈতিকভাবে সংকটে ফেলেছে।’ হাজার হাজার মানুষ প্যারিস এবং অন্যান্য ফরাসি শহরের রাস্তায় নেমেছে। জাতীয় সংগীত গেয়ে এবং ট্রেড ইউনিয়ন পতাকা উড়িয়ে এমন পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। প্যারিসের অন্যতম প্রধান পাবলিক স্কোয়ার প্লেস দে লা কনকর্ডের মাঝখানে আগুন জ্বালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার সেল ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে স্কয়ারটি খালি করে।

দেশটির ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা বলছেন, মাখোঁর পরিকল্পনা এরই মধ্যে সংসদীয় বিভেদ তৈরি করেছে।এ অবস্থায় সংস্কার সিদ্ধান্ত থেকে পেছানো সরকারের জন্যই ভালো সিদ্ধান্ত। জনবিরোধী কোনো পদক্ষেপ ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়। তবে মাখোঁর পরিকল্পনা বাতিল করা হলেও পেনশনের বিষয়ে কিছু সংস্কার প্রয়োজন আছে বলেও একমত পোষণ করছেন তারা।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image