• ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৫ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

এডিপির আকার কমছে ১৯ হাজার কোটি টাকা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২:১৫ এএম
উৎসের ব্যয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না
adp revise b

নিউজ ডেস্ক:    করোনার প্রভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে উন্নয়নকাজ। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগোয়নি বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্প। এর পরও সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) দেশীয় উৎসের ব্যয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। মূল এডিপিতে রাখা এক লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বরাদ্দ বহাল রাখা হচ্ছে। অবশ্য স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন কমছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। আর সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি ঋণ এবং অনুদান কমানো হচ্ছে ১৪ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। বিদেশি সহায়তা থাকছে ৭৩ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট বা আরএডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে দুই লাখ ১৭ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূল এডিপি থেকে কমছে ১৯ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এ সংশোধিত এডিপি পেশ করা হবে। আজ বুধবার এ বৈঠক হওয়ার হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, করোনার কারণে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রতার ছাপ রয়েছে এবারের আরএডিপিতে। সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে প্রকল্পের বরাদ্দের ক্ষেত্রে। স্থানীয় সম্পদ, বিদেশি অর্থায়ন, সামষ্টিক অর্থনীতির গতিচিত্র বিবেচনায় আরএডিপির বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের এডিপি বাস্তবায়ন চিত্রও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের গত জানুয়ারি পর্যন্ত সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ৩০ দশমিক ২১ শতাংশ।

উন্নয়নে ২০৪১ সালের রূপকল্প বাস্তবায়নে নেওয়া দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার প্রথম বছর হিসেবে চলতি অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন করা হয়। সে আলোকেই সংশোধিত এডিপিও প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সদস্য প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী সমকালকে বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধন প্রস্তাব পাওয়ার পর পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর পর সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করে বরাদ্দ প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, বৈষম্য নিরসনে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন হবে- এমন প্রকল্পের বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফাস্ট ট্র্র্যাক প্রকল্পের কাজও যাতে দ্রুততম সময়ে শেষ করা সম্ভব হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) ভিত্তিক পদক্ষেপের জন্য সহায়ক কিছু প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অর্থবছরের আর মাত্র চার মাসের মতো বাকি। এই সীমিত সময়ের মধ্যে অনেক কাজ করে ফেলা সম্ভব হবে না। ফলে নতুন প্রকল্পকে উৎসাহিত করা হয়নি।

অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বড় বরাদ্দের মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বাস্তবায়নে সবচেয়ে পিছিয়ে স্বাস্থ্য খাত। বাস্তবায়নের হার মাত্র ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ। এর পরও স্বাস্থ্য খাতে নতুন করে আরও ৭৯৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সংশোধিত এডিপিতে মোট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ১৩ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা।

আরএডিপিতে বরাদ্দ হ্রাস-বৃদ্ধি :সর্বোচ্চ বরাদ্দের ১০ প্রকল্পের পাঁচটিতে বরাদ্দ কমছে আরএডিপিতে। বাকি চারটির বাড়ছে। একটিতে অপরিবর্তিত থাকছে। এর মধ্যে মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে দুই হাজার ৩১৩ কোটি টাকা বাড়ছে। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ( পিইডিপি-৪) বরাদ্দ বাড়ছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও সাপোর্ট টু ঢাকা-কাঁচপুর প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ছে। অন্যদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও মেট্রোরেল (লাইন-৬), পদ্মা সেতু প্রকল্পের বরাদ্দ কমছে এই অর্থবছরের জন্য।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image