• ঢাকা
  • সোমবার, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৫ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

যমুনার দুর্গম চরে ক্যাপসিকাম আবাদ,বিপাকে চাষী হৃদয় মিয়া


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪৬ পিএম
যমুনার দুর্গম চরে বিক্রি নিয়ে বিপাকে চাষী হৃদয় মিয়া
ক্যাপসিকাম আবাদ

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর ইসলামপুর উপজেলার যমুনার মধ্যবর্তী দুর্গম চরাঞ্চল সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া গ্রামে ক্যাপসিকাম নামে বৈশ্বিক সবজি আবাদ করেছে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়া। সে ওই গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে। এখন বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়ভাবে ক্যাপসিকাম বিক্রি না করতে পেরে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

হৃদয় মিয়া ইউটিউবে ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাড়ির পাশে ৪০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিকাম আবাদ শুরু করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ রঙের ক্যাপসিকাম। অধিক ফলনের আশায় ক্যাপসিকাম ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক হৃদয় মিয়া। তার হাতের ছোঁয়া আর যত্ন-পরিচর্যায় ক্যাপসিকামের চারাগুলো হয়ে উঠেছে হৃষ্টপুষ্ট।

হৃদয় মিয়া জানায়, চারা রোপণের দুমাস পর থেকেই গাছে ফল ধরা শুরু হয়। ৪০ শতক জমিতে ক্যাপসিকাম আবাদে বীজ কেনা, জমি প্রস্তুত, সার, বালাইনাশক ও মালর্চিং পেপার কেনা এবং শেড তৈরিসহ সব মিলিয়ে তার প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যদিও নিজেরা কাজ করায় এর মধ্যে শ্রমিকের খরচ খুব বেশি লাগেনি। চারা রোপণের আড়াই মাস পর থেকে তিনি ক্যাপসিকাম বিক্রি শুরু করেন। তবে ক্যাপসিকাম স্থানীয়ভাবে বিক্রি করা যায় না। বিক্রি করতে হয়েছে ঢাকার কাওরান বাজারে। প্রতিমণ ক্যাপসিকাম বিক্রি করা হয়েছে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকায়। ইতিমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ক্যাপসিকাম বিক্রি করা হয়েছে। এখন ক্ষেতে যে পরিমাণ ফসল আছে, তাতে অন্তত দেড় লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে ক্যাপসিকাম সবজিটি এ অঞ্চলের মানুষ খেয়ে অব্যস্ত না থাকায় স্থানীয়ভাবে ক্যাপসিকাম বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছি।'

অনলাইন ঘেঁটে জানা যায়, ক্যাপসিকাম একটি বৈশ্বিক সবজি। এটাকে মিষ্টি মরিচ নামেও ডাকা হয়। বাংলাদেশেও তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। মিষ্টি মরিচের আকার ও আকৃতি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে তবে সাধারণ ফল গোলাকার ও ত্বক পুরু হয়। মিষ্টি মরিচ দেশীয় প্রচলিত সবজি না হলেও ইদানিং এর আবাদ বাড়ছে। বড় বড় শহরের আশেপাশে সীমিত পরিসরে কৃষকরা এর আবাদ করে থাকেন, যা অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়াও মিষ্টি মরিচের বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনাও প্রচুর, কারণ সারা বিশ্বে টমেটোর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ। পুষ্টি মনের দিক থেকে মিষ্টি মরিচ অত্যন্ত একটি মূল্যবান সবজি বলে পুষ্টিবিদদের অভিমত। তাঁদের মতে, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' থাকার কারণে এবং অতি সহজেই টবে আবাদ করা যায় বলে দেশের জনসাধারণকে মিষ্টি মরিচ আবাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

হৃদয় মিয়ার বাবা আবু সাঈদ বলেন, 'হৃদয় মিয়া দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। সে ইউটিউব দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে ৪০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম আবাদ করেছে। পরিপক্ক হওয়ার প্রতিটি ক্যাপসিকাম ওজন হয় আড়াইশ গ্রাম। যা বাজারে বিক্রি করে পরিবারের অভাব-অনটন ঘোঁচবে বলে আশাবাদী। তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা ক্যাপসিকাম সবজিটি খাওয়ায় অভ্যস্ত না থাকায় ক্যাপসিকাম স্থানীয় কোনো হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারছি না। অনেকটা বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হচ্ছে ঢাকার কাওয়ান বাজারে নিয়ে গিয়ে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বিএসসি বলেন, 'তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়ার ক্যাপসিকাম আবাদ করা দেখে এলাকাবাসী আনন্দিত। এর আগে আমরা এ জেলায় কোথাও ক্যাপসিকামের আবাদ দেখিনি। প্রথমবারের মতো এলাকায় আবাদ করায় প্রতিদিনই দূর-দুরান্ত থেকে লোকজন ক্যাপসিকামের ক্ষেত দেখতে আসছেন। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান টিটু ক্যাপসিকাম ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে স্থানীয় কৃষকরা ক্যাপসিকাম আবাদ বাড়াবে বলেও আমার বিশ্বাস।'

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএলএম রেজুওয়ান বলেন, 'ক্যাপসিকাম উচ্চ মূল্যের একটি নতুন ফসল। এ উপজেলায় প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে এ ফসল আবাদ করে সাফল্য লাভ করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হৃদয় মিয়া। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। বাজারে দাম ও চাহিদা ভালো হওয়ায় এ উপজেলায় আগামীতে ক্যাপসিকামের আবাদ আরো বাড়বে বলে আশা করছি।'

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image