• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৮ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

তরুণ লেখকের ভাবনায় বইমেলা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৩৮ পিএম
বইমেলার প্রভাব উত্তরোত্তর বেড়ে চলুক
লেখকের ভাবনায় বইমেলা

মেহেদী হাসান কাওসার, জবি প্রতিনিধি:   এসেছে বইমেলা, ক্যাম্পাসের নবীন লেখকরাও তাদের কলম থামিয়ে রাখেননি। লিখছেন কবিতা, উপন্যাস, রম্য কেউবা করেছেন অনুবাদ। চলতি বইমেলা নিয়ে কি ভাবছেন তারা, এমন কয়েকজন লেখকের সাথে কথা বলেছেন – মেহেদী হাসান কাওছার


অনুবাদক হিসেবে নিজেকে সফল করতে চাই।

ফাহিম মোরশেদ
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়

অমর একুশের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে বইমেলা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা রাখে। লেখক হিসেবে বইমেলা যেন আমাদের প্রাণপ্রিয় উৎসব।বইমেলায় বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ভিন্ন ভিন্ন সাজে সেজেছে। প্রতিটি বইয়ের স্টলে বাঙালীয়ানা প্রকটভাবে লক্ষণীয়। আর পাঠকও তাই সাদরে গ্রহণ করেছে মেলার এবারের মেলাকে। মেলার উদ্বোধন থেকেই লেখক পাঠকের সমাগমে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত। প্রত্যেকেই নিজের পছন্দের লেখকের বই ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করছে। অনুবাদ-লেখক হিসেবে বইমেলায় পাঠকের ভিড় দেখা, ভালোবাসার ভিড় লক্ষ্য করা আমার জন্য বেশ রোমাঞ্চকর একটি অভিজ্ঞতা। প্রবীণদের পাশাপাশি  তরূণদের বইয়ের প্রতি ঝোঁক যে কত বেশি তা মেলায় নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আশা করছি মাসের সামনের দিনগুলোতে জনসমাগম আরও বাড়বে। কেবল বই তো নয়, আড্ডা ও বন্ধুত্বের মিলনমেলা যেন একুশে বইমেলা।

বইমেলায় পারস্পরিক সম্মেলন বাড়ছে।

মারজানা তাহ্সীন
প্রানিবিদ্যা বিভাগ
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ

বইমেলা, বরাবরই আমাদের বাঙ্গালী জাতির প্রানের মেলা। লেখক পাঠকদের মিলন মেলাই বলা চলে। এখানে প্রেম,  বিচ্ছেদ, বিরহ সবকিছুরই বসবাস। সাহিত্যকে সমৃদ্ধ যারা করে গেছেন তারা যেনো জীবন্ত হয় এই প্রতিবছর। তরুণ লেখকরাও তাদের সাহিত্যচর্চায় বর্তমান সময়ে এগিয়ে যাচ্ছে।এটা আমাদের আগামি প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চায় আরো অনুপ্রাণিত করবে। অমর একুশের এই বইমেলায় এলে বুঝা যায় বাংলা সাহিত্যর রুপ। পাওয়া যায় নতুন বই এর ঘ্রাণ। আমি নিজেও একজন তরুন লেখক আমার নিজেরও বই প্রতিবছর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে। বই প্রকাশের পর দূর দূরান্তের অনেকের ইতিবাচক বার্তা পেয়েছি। বইমেলায় পরিচিত, অপরিচিত অনেকেই দেখা করতে আসছেন, একসাথে চা খাওয়া হচ্ছে, অন্য লেখকের বইও দেখা হচ্ছে। এই যে পারস্পরিক সম্মিলন, এটাও বইমেলার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


ছোটবেলা থেকেই বইমেলার সাথে সম্পর্ক

ফাউজিয়া সুলতানা স্নিগ্ধা
খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগ
গভর্নমেন্ট কলেজ অফ অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স

আব্বু আম্মুর আগ্রহ এবং চেষ্টায় ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক। ছোট ছোট গল্পের বই পড়া, পত্রিকার পাতা থেকে গল্প কেটে কেটে নিজেরই একটা বই বানিয়ে ফেলা, কোথাও বেড়াতে গেলে তাদের সংগ্রহে থাকা গল্পের বইগুলো দেখা, সবকিছুতেই ছিল অসীম আগ্রহ। তাদের হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে বই মেলায় যাওয়া, বড় বড় উপন্যাস বা কবিতার বইগুলো না বুঝলেও সেগুলো স্পর্শ করা, নতুন নতুন বইয়ের ঘ্রান নেওয়া, এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি। এত বইয়ের মাঝে ছোট্ট আমি যেন হারিয়ে যেতাম। বইমেলার আবেদন কখনোই আমার কাছে এতোটুকুও কম মনে হয়নি। প্রতিবছরই বইমেলা যেন নতুন এক আমেজ, নতুন এক প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়। আর আমারও অপেক্ষার প্রহর শুরু হয় আমি কখন বইমেলায় যাব। প্রতিটি বইমেলা আমার কাছে এক অসাধারণ অনুভূতি নিয়ে হাজির হয়। কিন্তু এবারের বইমেলার অনুভূতিটা একটু বেশিই ভালোলাগার। কারণ আমার প্রথম বই প্রকাশিত হচ্ছে। আশা করি এত এত ভালো বইয়ের মাঝে আমার বইটিও যেন একটি বিশেষ স্থান দখল করতে পারে।


লেখক আত্মপ্রকাশের সুযোগ পায় বৃহৎ পরিসরে

ফাহিম মুনতাসির
বাংলা বিভাগ
সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়

মেলা মানেই সম্মিলিত হওয়ার এক দারুণ আয়োজন।আর বইমেলা তেমনি এক আয়োজন  যেখানে জ্ঞানের আদান প্রদান হয়। দৃঢ় হয় লেখক পাঠকের সম্পর্ক। মনে জাগা প্রশ্নের উত্তরও পাওয়া যায়। জানা যায় অনেক অজানা তথ্য। বইমেলার মাধ্যমে সরাসরি লেখকের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় ঘটে। পাঠক তাঁর মনে জমা থাকা প্রশ্ন গুলো খুব সহজেই লেখককে করতে পারেন সরাসরি। লেখকের সাথে প্রকাশক বা প্রকাশনীর নিয়মিত যোগাযোগ সৃষ্টি হয়, মেলা ছাড়া যে যোগাযোগ টা ফোনে ফোনেই হতো। পাঠকের কাংখিত লেখা মেলে এই বইমেলায়। সময় সুযোগ জায়গার অভবে যে লেখককে কাছ থেকে দেখা হচ্ছিল না তাকে খুব সহজেই বই মেলায় পাওয়া যায়। প্রকাশককে কাছে থেকে বইয়ের দোকানে বসে পাঠকের মনোভাব বুঝতে পারেন  বইমেলা ছাড়া এটা অন্য কোনো উপায়ে সম্ভব নয়। বইমেলার মাধ্যমে ভালো বই এবং গুরুত্বপূর্ণ বই খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। এই মেলায় অনেক নতুন লেখক তাঁর আত্মপ্রকাশের সুযোগ পায় বৃহৎ পরিসরে যেটা মেলা ছাড়া সম্ভব হতো না। প্রায় সব প্রকাশনী থাকার জন্য সহজেই প্রত্যাশিত বই খুঁজে বের করা যায় এক মাঠ থেকেই।

প্রথমবার বইমেলায় গিয়েছি লেখক হিসেবে

মারুফ হাসান
এমবিবিএস
স্যার সলিমুল্লাহ্ মেডিকেল কলেজ,ঢাকা

আমরা যারা নতুন লেখার চেষ্টা করছি তাদের কাছে বইমেলা আলাদা একটা মহিমা নিয়ে হাজির হয়। এবারের বইমেলাটা আমার জন্য একটু বেশিই আবেগের জায়গা ছিলো। কারণ এইবার প্রকাশিত হয়েছে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ "হৃদির জন্য" (বাতিঘর প্রকাশনী,স্টল নং ৪৫৫-৫৬)। বেশ কয়েকবার যাওয়া হয়েছে বইমেলায়। অনেক নতুন পুরাতন লেখকদের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। বেশ ভালো লেগেছে সবার সাথে কথা বলে। বইমেলা নিয়ে, লেখালেখি নিয়ে প্রত্যেকেরই দারুন দারুন সব চিন্তাভাবনা রয়েছে। সবার এত এত আগ্রহ দেখে সত্যি আমি মুগ্ধ। অনেক পাঠকদের সাথেও কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তাদের হাস্যোজ্বল মুখগুলুই বলে দেয় তারা কতটা উপভোগ করছে। এই ধারা বজায় থাকলে বাংলা সাহিত্য নিঃসন্দেহে সগৌরবে আরো বহুদূর এগিয়ে যাবে। ঢাকা শহর হয়তো দূষণের জন্য সবার কাছে পরিচিত কিন্তু বইমেলার পা দিতেই মনে হয় এখানে সবাই বই না কিনে এসেছে শব্দ দূষণ করতে কিংবা ছবি তুলতে।

বইমেলাই আমার কাছে আনন্দমেলা

অনিন্দ্য প্রাঙ্গন
মেকানিকাল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং
আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ছেলেবেলা থেকেই প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি এলে বইমেলা যাবার জন্যে এক অদ্ভূত উৎকণ্ঠা কাজ করতো। প্রত্যেকটি স্টল ঘুরে ঘুরে দেখা আর নতুন বইয়ের পাতার ঘ্রাণে তৈরি হওয়া সেই ভালোলাগার মূহুর্তগুলো কিছুমাত্র কমেনি আজও। সময়ের সাথে বইমেলাকে করেছি নতুনভাবে আবিষ্কার। ছোট থেকে বড় সকলের জন্য যেন এ স্থান হয়ে ওঠে এক মনোমুগ্ধকর আনন্দমেলা। পাশাপাশি নতুন লেখকদের লেখায় ফুটে ওঠে সৃষ্টিশীলতার নান্দনিকতা। শব্দের মাধুর্যতায় লেখকেরা যেমন লেখনীতে প্রাণ জুড়ে দেন, তেমনি পাঠকেরা তা গ্রহণ করে সেই লেখাকে পরিপূর্ণতা দান করেন। বইমেলায় শিক্ষার্থী কিংবা তরুণ প্রজন্মের ঢল দেখলেই বোঝা যায়, তারাও কতটা অধির আগ্রহে প্রতীক্ষায় থাকে এই মাসের জন্য । এই প্রাণোচ্ছল পরিবেশ ভবিষ্যতের জন্যেও এক আশাবাদ ব্যক্ত করে এই যে, পরবর্তী প্রজন্ম বইয়ের ভেতর তাদের আনন্দ খুঁজে নিতে সক্ষম হবে। সকলের চিন্তায় ও মননে বই ও বইমেলার প্রভাব উত্তরোত্তর বেড়ে চলুক, এই কামনা করি।

ঢাকানিউজ২৪.কম / এইচ

আরো পড়ুন

banner image
banner image