• ঢাকা
  • সোমবার, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৭ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

চুয়াডাঙ্গার মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৫৪ পিএম
করোনার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানোর প্রত্যাশা
মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ

শেখ লিটন, চুয়াডাঙ্গা: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। আগের চেয়ে কাজ বাড়লেও ব্যয় বাড়ায় তারা খরচ নিয়ে শঙ্কিত। গেল দু’বছর করোনার ধকল কাটিয়ে এবার ঘুরে দাড়ানোর প্রত্যাশা হিন্দু ধর্মালম্বীদের। তাই এবার ভালোভাবে পূজা উদযাপনের আশা মন্দির কমিটির।

চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি পূজা মন্দির ঘুরে দেখা যায়, এখন প্রতিটা মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কাঁদা মাটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আর কদিন বাদেই রং তুলির আচড়ে রঙিন সাজে সাজবে দেবী দুর্গা। প্রতিটা মন্ডপে শোভা পাচ্ছে গণেশ, লক্মী, স্বরস্বতী, মা দুর্গাসহ তার বাহকরা। আর কিছুদিন পরই শুরু হবে প্রতিমার রং তুলির কাজ।

তারপরই মূল আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসব আনন্দ। তোলার জন্য থাকবে আলোকসজ্জ্বা, ডেকোরেশন, গান-বাজনা, সিদূর খেলা, হলি খেলা, আরোতি প্রতিযোগিতা, যেমন খুশি তেমন সাজ, শঙ্খ বাজানোর প্রতিযোগিতা, নৃত্য পরিবেশনসহ আরও সব আনন্দ আয়োজন। এবার সনাতন ধর্মালম্বীদের আর্শিবাদ নিয়ে মা দুর্গা আসছে গজে চড়ে,আর গমন হবে নৌকায়। সামনে পহেলা অক্টোবর থেকে শুরু হবে শারদীয় দুর্গা পূজা উৎসব।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৩টি মন্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর থানায় পূজা ২৩টি মন্ডপে, আলমডাঙ্গায় ৪২টি, দামুড়হুদায় ১৪টি, দর্শনায় ১৮টি ও জীবননগরে ২৬টি মন্ডপে উদযাপন হবে।

প্রতিমা কারিগরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবার তারা যে পারিশ্রমিক পায় তা দিয়ে কোন রকমে চলে। নিত্যপণ্যের দামের সাথে প্রতিমা তৈরির কারিগররা এ পারিশ্রমিকে পাল্লা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। তা না হলে কারিগরদের বংশীয় এ পেশা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তাদের দাবি আরেকটু প্রতিমা তৈরির টাকা একটু বেশি হলে ভালো হয়। তাহলে কারিগরা এবার গেল বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে এমটাই প্রত্যাশা।

কথা হয় প্রতিমা তৈরির কারিগর সন্যাসী পালের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এবার শারদিয় দুর্গা পূজা উদযাপন উপলক্ষে আমরা এখন মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। এখন প্রতিমার তৈরির মাটির কাজ। আর কিছুদিন পর থেকে শুরু হবে রং তুলির কাজ। তারপার মা সবার আশির্বাদ নিয়ে ভিটায় উঠবে।

আরেক কারিগর নিরব পাল বলেন, এখন প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। তবে আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজে যে টাকা পাই, তাতে চলা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। কারণ সব
জিনিসের দাম বেড়েছে। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে এ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার আহবান তার।

বড় বাজার এলাকার হিন্দু ধর্মালম্বী শ্যামল কুমার নাথ বলেন, পূজা উদযাপনে মন্দির থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। আর কিছুদিন পর আমাদের আশির্বাদ নিয়ে মা দুর্গা আসবে। এতে আমরা খুবই উৎসবের আমেজে আছি। আমরা সবাই সবার মতো করে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব। আশা করি গেল বছরের থেকে এবার আনন্দ বেশি হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কিশোর কুমার আগরওয়ালা বলেন, সামনে বড় পূজা। এখন এ জেলার প্রতিটা মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আর কিছুদিন পর শুরু হবে শারদীয় দুর্গা পূজা উৎসব।

গতবার করোনার জন্য সেভাবে আনন্দ আয়োজন পালন করতে পারিনি। কিন্তু এবার আনন্দের কোনো কমতি থাকবে না। আর এখন প্রতিমা তৈরির কারিগরদের মজুরি একটু কম। তবে মজুরি বেশি দেওয়ার চেষ্টা করবো। এতে এখন প্রতিমা শিল্পিরা ব্যাস্ত সময় পার করছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image