• ঢাকা
  • রবিবার, ২২ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৫ ফেরুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বিদেশীদের মাতব্বরি করে পরামর্শ দেয়ার দরকার নেই : পররাষ্ট্রমন্ত্রী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ০৯ জানুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৪৯ এএম
মাতব্বরি করে পরামর্শ দেয়ার দরকার নেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন

নিউজ ডেস্ক:  বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এ দেশের সৃষ্টি হয়েছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। বিদেশীদের মাতব্বরি করে আমাদের পরামর্শ দেয়ার দরকার নেই। ওনারা নিজেদের আয়নায় দেখুক।’

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ই-গেট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান। আমরা এ চাওয়াকে স্বাগত জানাই। তবে এসব কথা ও কাজের মধ্যে মিল আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই আমরা রাখি।’ এ সময় তিনি সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন হাউজ স্পিকার নির্বাচনের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে বলেন, ‘এ ধরনের ঝামেলা তো আমাদের হয় না। আমেরিকার ৮২ পার্সেন্ট বা ৭২ পার্সেন্ট জনগণ মনে করে, আমেরিকার ডেমোক্রেসি খুব দুর্বল। আর যারা রিপাবলিকান পার্টির তাদের ৭৭ পার্সেন্ট মনে করে, গত নির্বাচন ছিল ফ্রড। দে হ্যাভ স্টোলেন দি ইলেকশন। এ রকম তাদের মনমানসিকতা। আমাদের দেশেও কিছু লোক এ ধরনের আছে। কিন্তু আপনি যদি দেখেন, ওই দেশে গড়ে কতজন লোক ভোট দেয়? পঞ্চাশের নিচে। আর আমাদের দেশে ৭২, ৮০, ৯০ পার্সেন্ট লোক ভোট দেয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওইসব দেশে নির্বাচনের এক মাস আগে ক্যাম্পেইন শুরু হয়। আমাদের দেশে শুরু হয় এক বছর আগে। এ দেশের সৃষ্টি হয়েছিল গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যখন আওয়ামী লীগ মেজরিটি পেল, তাদের সরকার গঠন করতে দেয়া হলো না, তখনই তো আমরা আন্দোলন শুরু করলাম। জেনোসাইড হওয়ার পরে আমরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিলাম। আমাদের জন্ম হয়েছে টু আপহোল্ড ডেমোক্রেসি, টু আপহোল্ড জাস্টিস, টু আপহোল্ড হিউম্যান ডিগনিটি। আমরা যুদ্ধ করেছি টু আপহোল্ড হিউম্যানিটি। এ দেশের প্রতিটি মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এ প্রিন্সিপালগুলো আছে। তো অন্যরা মাতব্বরি করে আমাদের পরামর্শ দেয়ার দরকার নেই। ওনারা নিজেদের আয়নায় দেখুক।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর বাংলাদেশ সফর ও আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরেও গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায় একই ধরনের কথা বলেছিলেন। সে সময় তিনি বলেন,  আমেরিকা চায় হিউম্যান রাইটস আপহোল্ড (মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা) করতে, আমরাও তাই চাই। আমাদের আলাপ হবে, অনেক কিছু নিয়েই আলাপ হবে। এটা উন্মুক্ত। বহুবিধ বিষয় নিয়ে আলাপ হবে।’

উল্লেখ্য, ১৪ জানুয়ারি রাতে বাংলাদেশ সফরে আসছেন ডোনাল্ড লু। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১৫ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব পর্যায়ে বৈঠকের কথা রয়েছে তার। যদিও তার সংক্ষিপ্ত সফরকে ঘিরে বাংলাদেশে এক ধরনের অতি উৎসাহী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দরে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি, প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছেন, আমাদের আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও ইনক্লুসিভ হবে। যারা ইলেকশনে আসবেন, সবাইকে নিয়ে আমরা নির্বাচন করতে চাই। আর আমরা, আমার দল বিশ্বাস করে, আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। এটা আমার স্লোগান। অন্যরা মাতব্বরি করতে পারে। বাট দে শুড ফলো আস। আওয়ামী লীগ সবসময় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে। যারা এ নিয়ে কথা বলে তাদের ইতিহাস নিয়ে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের অভাব।

বাংলাদেশের নির্বাচনে মার্কিন পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়া হবে কিনা তা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই আমরা অ্যালাউ করব, আমাদের লুকানোর কিছু নেই।’

ঢাকানিউজ২৪.কম /

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image