• ঢাকা
  • শনিবার, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ০২ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

পরিশেষে স্বপ্নলোকের চাবি রাফিয়া আক্তারের হাতে


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:১৫ পিএম
রাফিয়া আক্তারের হাতে
স্বপ্নলোকের চাবি

ফারজানা মৃদুলা

গতকাল চলে গেছে, আগামীকাল এখনো আসে নি, আমাদের কাছে পড়ে রয়েছে শুধু আজকের দিনটি, চলুন আমরা কাজ শুরু করি। 
মাদার তেরেসার এই বানী খুব বেশি অনুপ্রেরণা যোগায় স্বপ্নের পথে  আত্নবিশ্বাসী  আজকের এই গল্পের নায়িকাকে। 
নারী অগ্রযাত্রার এক সফল ও সচ্ছ মনের পথিক রাফিয়া আক্তার। 

দেশীয় ঐতিহ্য কে ধারন করে রাখতেই মূলত উদ্দোক্তা হয়ে উঠা সেই ১৯৯৮সালে  ৫০ টাকা মূল্যের লেদারের ব্যাগে নিজে ডিজাইন করে। 
রাজধানী শহর ঢাকাতে প্রথম সুপার শপ ( স্টপ এন শপ) চালু হয়েছিলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খুব নিকটবর্তী হওয়ার সুবাদে নিজের হাতের তৈরী সেই ডিজাইন করা ব্যগটি নিয়ে যায় নমুনা হিসেবে। তখন থেকেই স্বপ্নবাজ রাফিয়া আক্তার নিজের লক্ষ্যকে সফল করার উদ্দেশ্যে পথচলা শুরু করার ইচ্ছে প্রবল হলেও ব্যবসা কে টিকিয়ে রাখার ভাবনা মাথায় ছিলো না।তাই দীর্ঘ অবসর। 

খুব ছোটবেলা হতেই উপলব্ধি করে নিজের শখ কিংবা প্রয়োজনের জিনিসপত্র কারো কাছে না চেয়ে নিজে সেই প্রয়োজন মেটানোর। তাই একদম আলসে মেয়ে না হয়ে লেখা পড়ার পাশাপাশি টিউশনি করে। 

কিন্তু স্বপ্নকন্যা বলে কথা । আবারো এক বছর পর ব্লকের কাজ দিয়ে শুরু হলো পথচলা। মজার বিষয় হলো কোন লাভ ক্ষতি বিবেচনা না করে পাড়া-প্রতিবেশিদের শাড়ী কিংবা জামাতে কাজ করে দিতো খুব চমৎকার করে।

কিন্তু বয়সটা ছিলো চঞ্চলতার তাই সেই উদ্দোগ্যটাও টিকিয়ে রাখা হয়ে উঠলো না।
এরপর প্রিয় সখা মানে জীবনসঙ্গীর সাথে শুভ পরিনয়। এবং চাকুরী জীবনে পা রাখা
কিন্তু ৯- ৫ টা অফিস যেন মনে আর সায় দিচ্ছিলো না রাফিয়াকে। তাই চাকুরী জীবনের ইতি টেনে ২০০৬ সালে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে ব্লক বাটিক এর প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করলো উদ্যোগ কে ব্যবসায় পরিনত করা।

তবে এই পথচলাটা মসৃন ছিলো না। বহু বাঁধা বিপত্তি এসে ঘিরে ফেললো সেই পথটাকে।আবারো বন্ধ হয়ে গেলো ব্যবসা।
২০১০ সালে কোমড় বেঁধে এবং মনকে আত্নবিশ্বাসী করে লেগে পড়লো কাজে।

বহু চড়াই-উৎরাই অনেক প্রিয় কিছু ত্যাগ করে, সুন্দর কিছু সময়কে বিসর্জন  দিয়ে পথচলা না থামিয়ে ২০১২ তে কারখানা চালু করে নিলো।
 প্রথমে নিজের পরিবার আত্বীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা পোষাক তৈরি করতো।

আর্থিকভাবে কতটা সফল হবে সেই চিন্তা বাদ দিয়ে ভাবলো ব্যবসাটাকে টিকিয়ে রাখতেই হবে। আর সেই স্বপ্নের ঠিকানার নাম "নীলকন্ঠ " এই নামটির পেছনের রহস্য এটি একটি পাখির নাম।

লোকমুখের কথা নীলকন্ঠ পাখির দেখা মিললে ইচ্ছে পূরন হয়!!
তবে উদ্দোক্তা হতে কিন্তু পরিবার এর খুব অনুপ্রেরণা ছিলো
এবং জীবনসঙ্গী তো এককথায় সাহস যোগানের উৎস।
এই যাত্রাতে আরো ভিন্ন মাত্রা যোগ করলো জামদানী নিয়ে কাজ শুরু করাটা।
সফল এই উদ্যোক্তা কিন্তু ব্যাক্তিজীবনে খুব গোছালো দৈনন্দিন জীবনে রুটিন মাফিক চলে এবং পরিবারও তেমনি পরিচালনা করে চলছে।

এইচএসসি পড়া কালীন সময়টা দেশের সুনামধন্য বিদ্যাপ্রতিষ্ঠান ভারতীয়সরী হোমস এ পড়ার সুযোগ হয়। আর সেই নিয়ম মেনে চলতে চলতে নিজের পরিবার এবং উদ্যোগতা জীবনের সদস্যদের একেবারে আর্মি শাষণে পরিচালনা করে।

সেই রাফিয়া যাকে স্বপ্নকন্যা বলা যায় অকপটে আজ সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছে

নারী উদ্দোক্তা ফোরাম প্রতিষ্ঠিত করে।কতশত উদ্দোক্তা আজ এই ফোরামের সদস্য এটা যেন চলার পথে এক অর্জন।
যে কোন কাজ ছড়িয়ে দিতে হয়, ব্যাবসা শুরু থেকে ছিলোনা কোন দক্ষতা, জানা ছিলোনা কিভাবে ক্রেতা ধরে রাখতে হয়। যে কারনে অনেক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অজ্ঞতা এবং ভুল সংশোধনের সহযোগী কেউ ছিলনা বলে চলতি পতে বারবার হোচট খেতে হয়েছে। এই ভাবনা থেকেই মনে জাগ্রত হয় যারা উদ্যোক্তা জীবন শুরু করেছে তারা যেনো কোন সমস্যা হলে সহজে সমাধান বের করতে পারে।এককথায় ব্যাবসার প্রসার ঘটাতে যা প্রয়োজন তা শেখানোর চেষ্ঠা করা থেকেই হয়ে উঠে নারী উদ্যোক্তা ফোরামের জননী।

রাফিয়া মনে করেন, ভালোলাগা, পছন্দ, জানার ও শেখার আগ্রহ যে বিষয়ে আছে সে বিষয়কে পেশা হিসেবে নিয়েই উদ্যোক্তা জীবন শুরু করা শ্রেয়। 
বলা যায় স্নপলোকের চাবি এখন এই সফল মানুষটির হাতে।

নারীদের অগ্রযাত্রার এই আলোকিত পথিকদের পথধরেই এগিয়ে চলুক নারীসমাজ এটাই হোক প্রত্যাশা।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image