ঢাকা  শনিবার, ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ; ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ          সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

spot_img
Homeনারী ও শিশু১৬তম ‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

১৬তম ‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত।

“আমরা এমন একটি সময়ে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এই কোর্স পরিচালনা করছি, যখন সমাজের সামগ্রিক পরিবেশ নানা দিক থেকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ।” সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম একথা  বলেন।

আজ ০৩ অক্টোবর ২০২৬ শনিবার বিকাল ৩:৩০টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে ১৬তম ‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্স, ২০২৬ এর সমাপনী ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু এবং কোর্স পরিচালক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম।

সম্মানিত শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গবেষক ও আইন বিশ্লেষক এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অব:) ফউজুল আজিম। কোর্সে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শা-রিদ শাহনেওয়াজ ও শিক্ষার্থী নিশাত সাইয়ারা।

শাহনেওয়াজ, কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করে বলেন রিসোর্স পারসনদের লেকচার থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। মডিউলগুলোর সাথে জেন্ডারের সম্পৃক্ততা ও খুব নিবিড়।

শিক্ষার্থী নিশাত সাইয়ারা বলেন, এই কোর্সটি  বিশ্লেষণধমী চিন্তা করতে ও কার্যকলাপ সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে। ব্যক্তি যদি নিজ পরিবার থেকে পরিবর্তনের জন্য কাজ করে তবে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সফলতা আসতে পারে। কোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য- উপাত্তসমূহ নিজেদের কাজে ও মানসিকতার পরিবর্তনে সহায়ক  ভুমিকা রাখবে।

বক্তব্য শেষে কোর্সের ফলাফল উপস্থাপন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র প্রদান করা হয়। ফলাফল উপস্থাপন কর্মসূচি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের পরিচালক ও সদস্য শাহজাদী শামীমা আফজালী।  

সহযোগিতায় ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের সদস্য শাহজাদী শামীমা আফজালী, সালেহা বানু, আফরুজা আরমান এবং মায়াবী দত্ত। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের সম্পাদক রীনা আহমেদ।

উক্ত ‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্সের সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে কোর্স শিক্ষার্থীবৃন্দ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ২০১১ সাল থেকে  কোর্সটি শুরুর পর  নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই কোর্সের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাধেশ মহিলা পরিষদ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষক ও রিসোর্স পারসনদের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ সম্ভব হতো না। বর্তমান সময়টিও অত্যন্ত অনিশ্চিত ও সংকটপূর্ণ। সমাজকে নানা পরিচয় ও বিভাজনের ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয় এসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। অথচ আমাদের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সকল নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। 

তাই এই কোর্সের শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে এই কোর্সের মাধ্যমে সংগঠন বহু মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছে। তাঁদের মধ্যে যদি নাগরিক দায়িত্ববোধ, নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়, তাহলে সেটিই হবে কোর্সের বড় অর্জন। গত তিন মাসে এই কোর্স থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কাজে লাগবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি এসময়  শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কে  শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজ নিজ কর্মজীবনে ও ব্যক্তি জীবনে এই জ্ঞান প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। নারী আন্দোলন শুধু নারীদের আন্দোলন নয়। নারী আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন অর্জিত হয়, তার সুফল পুরো সমাজ ভোগ করে। তাই সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নারী আন্দোলনকে সহযোগিতা করতে তিনি এসময় শিক্ষার্থীদেও পাশে থাকার ও জোর আহ্বান জানান।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন,  ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কোর্সটি করোনা মহামারীর সময়ে অনলাইনে রূপান্তর ঘটলেও বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় সরাসরি এবং অনলাইনের মাধ্যমে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের সাথে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা এবং নারী আন্দোলনের আদর্শকে একত্রিত করে একটি বৃহত্তর জেন্ডার সংবেদনশীল সমাজ গড়ে তোলাই এই কোর্স পরিচালনার প্রধান লক্ষ্য। যদিও বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তবুও বর্তমান সময়ে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও বিপরীতমুখী প্রবণতা সমাজকে পেছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই কেবল সনদ অর্জন করলেই চলবে না, বরং প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়েগ করে বৈষম্য দূরীকরণ এবং নারীর ক্ষমতায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যে কোর্স পরিচালক ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, তিন মাসের ক্লাসের বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি আন্দোলনমুখী সংগঠন। তবে আন্দোলনমুখী সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম কীভাবে আরও সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে জন্য  বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও আইনগত সহায়তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, অ্যাডভোকেসি ও লবিং প্রশিক্ষণসহ আন্দোলনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশিক্ষণ।

পাশাপাশি বাংলাদেশ মহিলা রপরিষদ মনে করে, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের বাইরেও নারী আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং সমাজে জেন্ডার সমতার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করতে একাডেমিক কোর্সের প্রয়োজন রয়েছে।

তত্ত্বকে যদি ব্যবহারিক কাজে প্রয়োগ করা না যায়, তাহলে সেই তত্ত্বের কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে। একইভাবে একজন অ্যাক্টিভিস্ট যদি সমাজ পরিবর্তনের কাজে কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে চান, তাহলে তাঁর কাজের পেছনে একটি শক্তিশালী তাত্ত্বিক ভিত্তিও প্রয়োজন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে জেন্ডার সমতা থাকবে এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য থাকবে না।

এই ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শুধু বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কর্মীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন বা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিসরে আলোচনা যথেষ্ট নয়। সমাজের বৃহত্তর পরিসরে যারা বিভিন্নভাবে কাজ করছেন তাঁদের মধ্যেও জেন্ডার সমতা ও নারী অধিকার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের বক্তব্যে গবেষক ও আইন বিশ্লেষক এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অব:) ফউজুল আজিম বলেন, কোর্স থেকে জ্ঞান অর্জন তখনই সার্থক হবে যখন প্রথমে নিজের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে। এই শিক্ষা থেকে প্রথম যে বিষয়টি গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা হলো নিজের মধ্যে জেন্ডার বৈষম্য ও পক্ষপাত দূর করার চেষ্টা করা এবং কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ, কথা বা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

এরপর এই চর্চা পরিবার, আশপাশের মানুষ, কর্মক্ষেত্র এবং বৃহত্তর সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এই কাজ শুধু তিন মাসের কোর্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি ধারাবাহিক ও আজীবন চর্চার বিষয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রতিনিয়ত শিখতে হবে, নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জেন্ডার সচেতনতা বাড়ানো, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি এসব বিষয়ে আমরা যত বেশি কাজ করব, ততই আমাদের মধ্যে পরিবর্তন আসবে। এই কোর্সের শিক্ষা ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজে প্রয়োগ করার মধ্য দিয়েই এর প্রকৃত সার্থকতা অর্জিত হবে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শা-রিদ শাহনেওয়াজ, কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করে বলেন রিসোর্স পারসনদের লেকচার থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। মডিউলগুলোর সাথে জেন্ডারের সম্পৃক্ততা ও খুব নিবিড়।

শিক্ষার্থী নিশাত সাইয়ারা বলেন, এই কোর্সটি  বিশ্লেষণধমী চিন্তা করতে ও কার্যকলাপ সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে। ব্যক্তি যদি নিজ পরিবার থেকে পরিবর্তনের জন্য কাজ করে তবে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সফলতা আসতে পারে। কোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য- উপাত্তসমূহ নিজেদের কাজে ও মানসিকতার পরিবর্তনে সহায়ক   ভ’মিকা রাখবে

বক্তব্য শেষে কোর্সের ফলাফল উপস্থাপন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র প্রদান করা হয়। ফলাফল উপস্থাপন কর্মসূচি পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের পরিচালক ও সদস্য শাহজাদী শামীমা আফজালী।  সহযোগীতায় সহযোগিতায় ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের সদস্য শাহজাদী শামীমা আফজালী, সালেহা বানু, আফরুজা আরমান এবং মায়াবী দত্ত। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদের সম্পাদক রীনা আহমেদ।

উক্ত ‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্সের সমাপনী ও সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে কোর্স শিক্ষার্থীবৃন্দ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ, সম্পাদকমন্ডলী, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন ।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular