• ঢাকা
  • রবিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ঠাকুরগাঁওয়ে আলুতে বেশি লাভবান ব্যবসায়ী ও ফারিয়ারা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৯ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৪০ পিএম
সরেজমিনে জেলার বেশ কয়েকটি ষ্টোরেজ ঘুরে জানা যায়
ষ্টোরেজ ঘুরে জানা যায়

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁওয়ের কোল্ড ষ্টোরেজগুলোতে আলু সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। জেলার কোল্ড ষ্টোরেজগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের পাশাপাশি ফরিয়া, মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা আলু সংরক্ষণে ভীড় জমিয়েছেন। তারা কৃষকের কাছে ৫০ কেজির বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি আলু ‘ধলতা’ হিসেবে বেশি নেন। মৌসুম শেষে আলু বিক্রি করে অতিরিক্ত আলু থেকে কোটি টাকা মুনাফা হয় বলে জানা যায়।

জেলায় মোট ১৫-১৬টি কোল্ড ষ্টোরেজ রয়েছে। সরেজমিনে জেলার বেশ কয়েকটি ষ্টোরেজ ঘুরে জানা যায়, গত বছর ১৫ ষ্টোরেজে ২৬ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষন করা হয়। এ থেকে ২০-৩০ শতাংশ আলু বীজ হিসেবে ধরেও প্রায় ২০ লাখ বস্তায় গড়ে ২ কেজি হারে ৪০ লাখ কেজি আলু ধলতা হিসেবে বেশি নেওয়া হয়। বিক্রির মৌসুমে (কেজি প্রতি ১৫ টাকা হিসেবে) যা থেকে মধ্যস্বত্বভোগী, ব্যবসায়ি ও ফরিয়ারা প্রায় ৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করে। এর বদৌলতে বিনা পূজিতে অনেক ফরিয়ারা আলু কিনে তা ব্যবসায়িদের দিয়ে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করেছেন।

এক সময় জেলায় একটি মাত্র কোল্ড স্টোরেজ থাকায় সেটিতে আলু সংরক্ষণে শ্লিপ পাওয়া ছিল সোনার হরিন পাওয়ার মত। বেশিরভাগ শ্লিপ চলে যেত কালোবাজারীদের হাতে। ফলে অনেক বেশি মূল্যে শ্লিপ সংগ্রহ করত কৃষকেরা। পরবর্তিতে শাহী হিমাগারের চেয়ারম্যান সেলিম রেজা সহ আরো কয়েকজন ঠাকুরগাঁওয়ে বেশ কয়েকটি কোল্ড ষ্টোরেজ দেন এবং কৃষকদের নানাভাবে আলু উৎপাদনে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। ফলে কৃষকেরা সংরক্ষনের সুবিধা ও সহযোগিতা পেয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে আলু চাষে এক বিপ্লব সাধিত হয়। যার সুফল কৃষক, আলু ব্যবসায়ীসহ সকলেই পায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের বেশ কয়েকজন কোল্ড ষ্টোরেজের মালিক জানান, কল্যাণ সমিতির অন্তরালে আলু নিয়ে জেলায় একটি সিন্ডিকেট পাটি তৈরী করা হয়েছে। যাদের কাজ কৃষকদের ব্যবহার করে নিজেদের লাভ করা। গত বছর থেকে কল্যাণ সমিতির লোকজন নতুন নিয়ম চালু করে। ঢাকা বা দেশের অন্যান্য জেলার ব্যবসায়ি বা ফরিয়ারা ঠাকুরগাঁও জেলায় তাদের নিজস্ব প্রতিনিধি দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে আলু কেনার সময় ধলতা হিসেবে ২-৩ কেজি আলু নেওয়া শুরু করে। সমিতির লোকজন বাধ্যতামূলক এটি ব্যবসায়ি ও ফরিয়াদের নিতে বাধ্য করেন। এতে করে অতিরিক্ত আলু থেকে লাভ কৃষক পায় না। জেলায় কিছু আলু বিক্রি হলেও এই সিন্ডিকেট পাটি বেশিরভাগ আলু দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠিয়ে দেয়।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আরাজী পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক নূর আলম বলেন, প্রতি বছর আমি কোল্ড ষ্টোরেজে ২ হাজারের মত বস্তা সংরক্ষণ করি। দাম কমলে ব্যবসায়িরা ১-৪ কেজি ধলতা নেয়। সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের বাকুন্দা গ্রামের কৃষক নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, কোল্ড ষ্টোরেজে ৫৮ বস্তা আলু সংরক্ষণ করলাম। এই আলু বিক্রির সময় ব্যবসায়িরা ২-৩ কেজি আলু ধলতা হিসেবে বেশি নিবে। ষ্টোরেজ মালিকগণ আমাদের কাছে ধলতা নেয়না।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন জানান, জেলায় এ মৌসুমে গত বছরের চেয়ে বেশি পরিমানে আলুর আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের যাবতীয় পরমর্শ প্রদান করা হয়েছিল। বর্তমানে জেলার কৃষক, হিমাগার মালিক ও কল্যাণ সমিতির সমন্বয়ের মাধ্যমে আলু ফসল থেকে জেলাবাসী উপকৃত হবে বলে মনে করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, কৃষি বিভাগের তথ্য মতে এ বছর জেলায় আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image