• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২০ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

মওদুদ আহমদ ছিলেন ব্যতিক্রমী রাজনীতিবিদ


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৫৪ এএম
তাকে চিত্রিত করলেন বন্ধুজন এবং রাজনীত
মওদুদ আহমদ

নিউজ ডেস্ক:   রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও লেখক—তিন পরিচয়েই সমুজ্জ্বল ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ছিল না হিংসা, অহংকার ও বিদ্বেষ। সহজেই মানুষকে আপন করে নেওয়ার গুণ ছিল। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, উদার গণতান্ত্রিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ইতিহাসের কাছে আজীবন সত্য ছিলেন। বারবার দল বদলের অপবাদ দেওয়া হলেও তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শন থেকে কখনো সরেননি। আজীবন দেশ ও মানুষের সেবা করে গেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র। দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকেও লেখালেখিতে সত্য উচ্চারণে ও নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে আপস করেননি।’

প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও লেখক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত স্মরণসভায় এভাবেই তাকে চিত্রিত করলেন বন্ধুজন এবং রাজনীতি ও আইন পেশার সহকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন মওদুদ আহমদ।

স্মরণসভায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজনীতি ও আইন পেশায় কোনো ব্যত্যয় থাকলেও মওদুদ আহমদ ইতিহাসের কাছে সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। স্বাধীনতার পূর্বে ও মুক্তিযুদ্ধকালে আইনজীবী হিসেবে তার অবদান স্বর্ণময়ী। ইয়াহিয়ার সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনিও ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে তিনি যেই জনমত সৃষ্টি করেছিলেন ত জাজ্বল্যমান থাকবে। তিনি যখন যে দলেই থাকেন না কেন, তার উদার রাজনৈতিক দর্শন ছিল। ভিন্নমত ধারণের ক্ষমতা ছিল। বাংলাদেশের বেশির ভাগ রাজনীতিবিদই সাধারণত আত্মজীবনী লিখে থাকেন। কিন্তু মওদুদ আহমদ লিখেছেন রাষ্ট্রজীবন। লেখার ক্ষেত্রে তিনি কখনো বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেননি।

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, মওদুদ আহমদ জাতির খুব কঠিন সময়ে আইনাঙ্গনে এসেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরের কঠিন সময়গুলোতে তিনি বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অনেক কিছুরই তিনি পুরোধা।

প্রবীণ আইনজ্ঞ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বলেন, তিনি আমার খুব ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তিনি আমাকে সবসময় একটা কথা বলতেন—গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এদেশের মানুষের মনকে বদলাতে হবে। আমি তাকে সবসময় বলতাম—আপনি যে বইগুলো লিখেছেন, সেগুলোর মধ্যেই আপনি বেঁচে থাকবেন।

স্মরণসভায় সভাপতিত্বকারী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ও মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত মওদুদ আহমদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাজউদ্দিন আহমদের প্রবাসী সরকারকে মওদুদ আহমদ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম বিরাট সাহস যুগিয়েছিলেন। জাফরুল্লাহ বলেন, ‘দেশে আবারও দুর্ভিক্ষের অশনিসংকেত শোনা যাচ্ছে। মানুষ না খেয়ে মরছে না, তবে অর্ধাহারে অপুষ্টিতে ভুগছে।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে মওদুদ আহমদ গ্রেফতার হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা কেউ কেউ এখন অস্বীকার করতে চান। এরশাদের আমলে, এমনকি বিএনপির আমলেও তিনি গ্রেফতার হন। তিনি ছিলেন ব্যক্তিক্রমধর্মী রাজনীতিবিদ, ছিলেন দক্ষ পারলামেন্টারিয়ান। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান চিরস্মরণীয়। ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এত লোকের সমাগম কীভাবে হয়েছিল, কার অবদান ছিল তাতে? যে মানুষরটার কোনো লোভ-লালসা নেই; আজ সেই মানুষটিকে অপমান করে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। ইতিহাসকে হত্যা করা যাবে না।’

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মওদুদ আহমদ ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র ছিলেন। রাজনীতি করেও সাহিত্যচর্চা করা যায়, সত্য লেখা যায়—মওদুদ আহমদ সেটির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল।’

মওদুদ আহমদের স্কুলবেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু ও লোকসংগীত শিল্পী মোস্তফা জামান আব্বাসী স্মৃতিচারণ করে বলেন, মওদুদ সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন, মানুষের জন্য কথা বলে গেছেন। এককথায় তিনি চমৎকার একজন রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন।

বিরোধীদলীয় সাবেক চিফ হুইপ ও বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, মওদুদ আহমদ হৃদয়ে গণতন্ত্র লালন করতেন। বর্তমানে দেশের যে অবস্থা, এমন দুঃসময়ে মওদুদ আহমদের খুব প্রয়োজন ছিল। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, মওদুদ আহমদ ছিলেন রাজনীতির দিকপাল। তার লেখা বই বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়।

স্মরণসভায় মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ বলেন, তিনি করোনায় মারা যাননি, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মওদুদ আহমদ ফিরে আসবেন। তিনি যেভাবে মানুষের সেবা করে গেছেন, তার স্বপ্ন পূরণে আমিও সেভাবে নোয়াখালী-৫ আসনের মানুষের সেবা করে যাব।

স্মরণসভার সঞ্চালক সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন বলেন, ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মওদুদ আহমদও গিয়েছিলেন। কেউ কেউ বলেন—মওদুদ আহমদ বারবার দল বদল করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো নিজের রাজনৈতিক দর্শন থেকে বিচ্যুত হননি। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি মূল্যবোধের রাজনীতির বাইরে যাননি।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

সংগঠন সংবাদ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image