• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২০ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম ও প্রতিকার


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ ফেরুয়ারী, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০২:৫৪ পিএম
ব্যাংকিং খাত এখন চরম ঝুঁকিতে। বাড়ছে মানি লন্ডারিং
usa dollar pic

আশ্রাফুল আলম নোবেল পাটোয়ারী


সাম্প্রতিককালে ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ও তথ্য-উপাত্ত আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। একে অপরকে দোষারোপের মাধ্যমে কিংবা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। ব্যাংকিং  সেক্টরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট দেশের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধা। বিশেষ করে পুঁজিবাজার, বিসমিল্লাহ গ্রুপ, বেসিক ব্যাংক, ডেসটিনি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, এটিএম বুথ বা পাসওয়ার্ড জালিয়াতিসহ সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা আমাদের আতঙ্কিত ও শঙ্কিত করে তুলেছে। তাছাড়া দেশের ব্যাংক খাতে তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগে বেশ কিছু জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে। আইসিটি বিশেষজ্ঞদেরও ভাবিয়ে তুলেছে এ ধরনের দুর্নীতি, আত্মসাৎ ও জালিয়াতির ঘটনা। ব্যাংকিং  সেক্টরে দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা যুগে যুগে হয়ে আসছে। যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও একেবারে দূর করা যাচ্ছে না। সু-শাসনের অনুপস্থিতির সুযোগে গত ৭ বছরে ৬টি বড় আর্থিক কেলেংকারিতে ৩০ হাজার কোটি টাকা চুরি বা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ভুয়া জমি বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার মতো ঘটনা শোনা যেত। আজ বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নে আইনের কঠোরতা সত্ত্বেও বেড়ে চলেছে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

যে ব্যাংক রাষ্ট্রের অন্যান্য অনুমোদিত ব্যাংকের নিয়মশৃঙ্খলা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত খোদ সেই বাংলাদেশ ব্যাংক-এর রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি যাওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় আত্মসাৎকৃত ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ৬৫০ কোটি টাকা উদ্ধারের আশা খুব কম এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন ফিলিপাইনের তদন্তকারী সিনেট কমিটি। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভে ফিলিপিন্সের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কর্তৃপক্ষ (এএমএলসি) ও দেশটির সিনেট তদন্ত কমিটি অনুসন্ধান শুরুর পর রিজার্ভ চুরির অর্থ থেকে পাওয়া প্রায় ৯৮ লাখ ডলার ইতোমধ্যে এএমএলসি’র কাছে জমা দিয়েছেন ক্যাসিনোর জাংকেট অপারেটর কিম অং। আবার ফিলিপিন্স কর্তৃপক্ষের তোড়জোড়ে রিজার্ভের এই অর্থ উদ্ধার হলেও পুরো পাওয়া যাবে কিনা- সিনেট কমিটির শুনানিতে যেসব তথ্য বের হয়ে এসেছে তাতে সেটি এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। ’ আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতও স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত।’ এই ঘটনায় গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গবর্নর আতিউর রহমানও পদত্যাগ করেন।

গত দেড় দশকে ব্যাংকিং খাতে ৯টি বড় ধরনের আর্থিক কেলেংকারী সংগঠিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশ, জনগণ এবং বিপুলসংখ্যক গ্রাহক। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটের সঠিক বিচার না হওয়ায় ব্যাংক জামানতে জনমনে তৈরী হয়েছে আস্থাহীনতা ও উৎকণ্ঠা যা ফিরিয়ে আনা দরকার। যাহোক ব্যাংকিং  সেক্টরে দুর্নীতি বন্ধে কিছু আগাম সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। এতে দুর্নীতি প্রতিরোধ পুরোপুরি সম্ভব না হলেও অন্তত আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে। স্বচ্ছতা ও সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাত এখন চরম ঝুঁকিতে। বাড়ছে মানি লন্ডারিং। আইনের ভাষায় ‘মানি লন্ডারিং একটা অপরাধ, যার মাধ্যমে বেআইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাপ্ত সম্পদ এমনভাবে লেনদেন হয়, যাতে মনে হয়, এসব এসেছে কোনো বৈধ উৎস থেকে। এসব বিষয়ে আইন থাকলেও ব্যাংকগুলোকে খুব সতর্ক অবলম্বন করতে হবে।   

পাসওয়ার্ড জালিয়াতি বা হ্যাকিং রোধে সতর্কতা : পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি রিজার্ভ রয়েছে চীনের যা ৩ হাজার ৮৮৮ বিলিয়ন ডলার। তারপর জাপানের রয়েছে ১ হাজার ২৬১ বিলিয়ন ডলার। এরপর সৌদি আরব, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, হংকং এবং দশম স্থান ভারতের (৩২০ বিলিয়ন ডলার)। কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশের রিজার্ভ নগণ্যই বলা যায় যা ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তবে কেন সেই সামান্য সঞ্চয়ের ওপরই কেন চোখ পড়েছিল হ্যাকারদের? নিশ্চয় আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নড়বড়ে রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক লেনদেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যদি বিশ্বমানের হওয়ার পরেও এমন ঘটনা ঘটে তবে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশ তাদের রিজার্ভ নিয়ে নিরাপদে ঘুমাতে পারার কথা না।

বিআইবিএমের তথ্য অনুযায়ী এদেশে ৭৮ শতাংশ ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের শনাক্তকরণ-সংক্রান্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ডাটা সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ভাসকোর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড্যান ডেকা অনলাইনে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে কিছু পরামর্শ দেন যার মাঝে ডায়নামিক বা গতিশীল পাসওয়ার্ড ব্যবহার অন্যতম । ডায়নামিক বা গতিশীল পাসওয়ার্ড হল মূলত অনটাইম পাসওয়ার্ড। যে কোন গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব খোলার সময় ব্যাংক থেকে একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্র দেওয়া হয় যাতে প্রতিবার অনলাইন লেনদেনের পর সংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড তৈরি হতে থাকে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক অনলাইন লেনদেনের সময় মূল পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি দুটি পাসওয়ার্ড তথা ডায়নামিক পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে পারেন। ফলে গ্রাহকের মূল পাসওয়ার্ড হ্যাক হলেও টাকা তুলে নেওয়া কঠিন হয়। এ ক্ষেত্রে ডায়নামিক পাসওয়ার্ড তার যথার্থ সমাধান। এটি দুই ধাপ প্রমাণীকরণের (টু স্টেপ অথেনটিফিকেশন) চেয়েও বেশি শক্তিশালী পদ্ধতি।

দুই ধাপ প্রমাণীকরণ বলতে বোঝায়, যখন কোনো গ্রাহক অনলাইনে লেনদেন করে তখন প্রাথমিকভাবে সে ব্যবহারকারী আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। কিন্তু প্রকৃত গ্রাহকই যে ওই আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করছে সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো একটি মাধ্যম ব্যবহার করা। সেটা মোবাইল ফোন হতে পারে বা অন্য কোনো যন্ত্র হতে পারে যাতে একটি স্বতন্ত্র নম্বর থাকবে যা কেবল ঐ গ্রাহকই জানবে। এক্ষেত্রে কোনো গ্রাহকের আইডি ও পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়ে গেলেও তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলা সম্ভব হবে না। জানা গেছে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের আট শতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভাসকোর হিসাব এবং লেনদেন সিকিউরিটি সলিউশন ব্যবহার হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, সিটি ব্যাংক এনএসহ বিশ্বের শীর্ষ ১০০ ব্যাংকও রয়েছে। শুধু আইটি মেশিন হলেই চলবে না। এসব  সেক্টরে দক্ষ ও সৎ মানুষেরও দরকার। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে সমস্ত আয়োজন ভেঙ্গে যাবে।

যে সব বিষিয়ে নজর দেয়া দরকার : ব্যাংকিং  সেক্টরে দুর্নীতি রোধে দৈনন্দিন কাজের তদারকি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ ও নিবিড়ভাবে মনিটরিং করতে হবে। প্রকৃত কাজে নিয়োজিত কর্মচারীর মূল্যায়ন ও চেইন অব কমান্ড সুরক্ষা রাখতে হবে। একই স্থানে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মচারীর দফতর পরিবর্তনও জরুরী। আমানত হিসাব নিয়ন্ত্রণ রক্ষাকারী বই-এর সাথে সমন্বয় করা, নিয়ন্ত্রণ রক্ষাকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের অবস্থা পর্যালোচনা করা, ব্যাংক কর্মকর্তাগণ কর্তৃক ব্যাংকিং নিয়মনীতি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক ইত্যাদি করতে হবে। আর ব্যাংকারর্সদের ব্যাংক সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতে হবে।

যে সব আইন সম্পর্কে সর্বদা ব্যাংকার্সদের ন্যূনতম ধারণা থাকতে হবেঃ

১। অর্থঋণ আইন ২০০৩;

২। অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩;

৩। অর্থঋণ আদালত বিধিমালা ১৯৯০;

৪। দি নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট এ্যাক্ট ১৮৮১;

৫। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯;

৬। দি ব্যাংকার্স বুকস এভিডেন্স এ্যাক্ট ১৮৯১;

৭। আদালত অবমাননা আইন ২০১৩;

৮। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬;

৯। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আইন ২০১০;

১০। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২;

১১। ব্যাংক-কোম্পানী আইন ১৯৯১;

১২। ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯;

১৩। চুক্তি আইন ১৮৭২;

১৪। অংশীদারি আইন ১৯৩২;  

১৫। রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮;

১৬। কোর্ট ফি আইন ১৮৭০;

১৭। ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০;

১৮। স্ট্যাম্প এ্যাক্ট ১৮৯৯;

১৯। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিধিমালা ১৯৯৪;

২০। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২;  

২১। বাংলাদেশ কারেন্সি অর্ডার ১৯৭২;

২২। আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩;

২৩। অর্থ আইন ১৯৯৪;

২৪। মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩;

২৫। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন ২০১২;

২৬। স্যুট ভেলুয়েশান আইন ১৮৮৭;

২৭। দেউলিয়া বিষয়ক আইন ১৯৯৭;

২৮। ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন এ্যাক্ট ১৯৪৭;

২৯। বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন ২০১৫।

৩০। উচ্চ আদালতের সর্বশেষ নজিরসহ উক্ত আইনসমূহ সম্পর্কে সর্বশেষ সংশোধনী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল নিয়মিত সার্কুলার।

ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাজ : ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কাজ হলো জনগণ বা আমানতকারীর জমাকৃত টাকার (প্রকৃত মূলধন) পূর্ণ হেফাজত করা। আমানতকারীদের জমাকৃত মূলধন সুস্পষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প বিকাশে বিনিয়োগ করা। বিনিয়োগকৃত টাকা থেকে প্রাপ্ত মুনাফার অংশ বিশেষ সরকারি কোষাগারে প্রদান ও প্রাপ্ত লাভ্যাংশ সুষম বন্টন ও সদ্বব্যবহার করা। কর্মচাঞ্চল্য ও কর্মসংস্থানে সহযোগী অবদান রাখা ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করা। সর্বোপরি জাতীয় অর্থনীতিতে সুস্পষ্ট অবদান রাখা। আমরা জানি শুধু ব্যাংকে যারা কর্মকর্তা/ কর্মচারী হিসাবে কাজ করেন শুধু তারাই ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। ব্যাংক পরিচালনার ধারাবাহিক পর্যায়ে যারা থাকেন তারা হলো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ/ পরিচালকদের এক্সিকিউটিভ কমিটি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অন্যান্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

ব্যাংক কর্মকর্তারা মূলত ৪ ধরনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত যথা: পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা (Delegated Power), ব্যবসায়িক ক্ষমতা (Business Power), ব্যাংকের নিজস্ব খরচাদির ক্ষমতা (Financial Power) ও প্রশাসনিক ক্ষমতা (Administrative Power) যার মধ্যে ব্যাংকিং সেক্টরের দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয় মূলত ব্যবসায়িক ক্ষমতার ব্যবহার সম্পর্কিত যা হলো ব্যাংক বিনিয়োগ বা ঋণ মঞ্জুরী করার ক্ষমতা। যেমন: জামানতি জিনিসের হেফাজত না করা, হিসাবের গোপনীয়তা প্রকাশ, গ্রাহকের নির্দেশ ছাড়া হিসাবের টাকা ব্যবহার বা অন্য হিসাবে স্থানান্তর যা ব্যাংকিং নিয়মে করা যায় না, গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত টাকা অতিরিক্ত চেক তৈরী করে অর্থ উত্তোলন, গ্রাহকের টাকা হিসাবে জমা না করে লেনদেন নিজ হাতে সংরক্ষণ, গ্রাহকের টাকা নিজ হিসাবে লেনদেন, কম টাকার চেক বেশি টাকা মূল্যের তৈরী ও আত্মসাৎ। এসব অনিয়ম হতে প্রতিকারের জন্য দৈনন্দিন কাজের তদারকি ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দ্বারা তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বাণিজ্যিক ব্যবসা বা শিল্প স্থাপনের জন্য উদ্যোক্তা যখন ঋণ মঞ্জুরির আবেদন করেন তখন ব্যাংক কর্মকর্তারা কি কি পদক্ষেপ নিবেন

এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হোল ঋণের আবেদনটি ভালভাবে পরীক্ষা করা। এ ব্যাপারে আমাদের দেশে পুরাতন পদ্ধতিতে ব্যাংকের কাজ শুরু হয়। যেমন: আবেদনকারী ব্যক্তিটি বা প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্র ব্যক্তিটি কে তা দেখা? তার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, মেধা, তার ব্যবসায়িক সুনাম, প্রস্তাবিত ব্যবসা পরিচালনার ব্যাপারে তার যোগ্যতা। যদি ব্যবসাটি লাভজনক না হয় তবে কখনও ঋণের টাকা ফেরত আসবে না। এ ব্যবসা বাজারের, সমাজের ও দেশের উন্নতিতে কী অবদান রাখতে পারে এমন বিষয়গুলো।

এই পর্যায়ে যেসব দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার পরিলক্ষিত হয়:

ক। পরিচালনা পর্ষদের প্রভাব/হস্তক্ষেপ/তদবির/চাপপ্রয়োগ/বাহিরের অন্যান্য প্রভাব;

খ। উদ্যোক্তা যাচাইকরণে (Selection of Borrower) অসতর্কতা বা অবহেলা;

গ। কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাব;

ঘ। বিভিন্ন রকম পরিস্থিতি ও প্রভাবের কারণে দুর্নীতি করা;

ঙ। আবেদনকারী/উদ্যোক্তা কর্তৃক প্রকল্প ব্যয় বেশি দেখানোর প্রবণতা রোধে ব্যর্থতা। এক্ষেত্রে আবেদনকারী প্রকল্প ব্যয় বেশি প্রদর্শন করে ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণের মধ্য থেকে তার নিজস্ব বিনিয়োগ (Equity Participation) বের করে নেওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে। তাই প্রারম্ভেই ব্যবসা বা শিল্প রুগ্ণ হতে বাধ্য। ফলশ্রুতিতে ব্যাংক ঋণ মন্দ ঋণে পরিণত হয়;

চ। প্রকৃত ঋণ গ্রহণকারীর নিজেকে বিভিন্ন কারণে/অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেকে আড়াল করে বেনামে বা ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নেয়া;

ছ। বৈদেশিক বাণিজ্যি বিশেষ করে আমদানী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ঋণপত্র (L/C) খোলার ক্ষেত্রে অধিক দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়। সাধারণত প্রকৃত আমদানীকারক নিজ নামে বা নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে এল/সি খুলে কোন সহযোগীর নামে এল/সি খোলায় আগ্রহী থাকে। আর সেই এল/সি খোলা হয় তার গ্যারান্টিতে। অনেক ক্ষেত্রে গ্যারান্টি ভুয়া থাকে বা গ্যারান্টিদাতার পূর্ণ বিবরণ ব্যাংকের কাছে থাকে না। অর্থাৎ সঠিকভাবে গ্যারান্টি গ্রহণ না করা এবং গ্যারান্টারের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় গ্রহণ না করা;

জ। আমাদানীকৃত মালামালের সঠিক ঘোষণা না দেয়া। এক মালের বদলে আরেক মাল আমাদানী, মূল্য ও পরিমাণের গরমিল করা এবং নিষিদ্ধ পণ্য আমদানী করা;

জ। আমদানী মাল সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা। বাজার মূল্যের চেয়ে আমদানী মূল্য বেশি হওয়া;

ঝ। এল/সি’র গ্যারান্টি দাতার দায়িত্ব এড়ানো বা অস্বীকার করা;

ঞ। আমাদানীকারক ও রপ্তানিকারক একই প্রতিষ্ঠান হওয়া;

ট। আমদানীকৃত পণ্য দীর্ঘকাল গুদামজাত রেখে পণ্যের মূল্য শূন্যের কোঠায় পৌঁছানো এবং সুদ হিসাব করে দেনা বৃদ্ধি করা ।

লেখক:   নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক অর্থনীতির খবর ও www.dhakanews24.com

ঢাকানিউজ২৪.কম /

খোলা-কলাম বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image