• ঢাকা
  • বুধবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ১০ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বিস্ময়ের আরেক নাম পদ্মা সেতু


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:৪২ পিএম
পদ্মা সেতু বিস্ময়ের আরেক নাম
পদ্মা সেতু

নিউজ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী ১১টা ৫৮ মিনিটে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন এক উন্নয়ন যাত্রার পথে হাঁটতে শুরু করল। সেতুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘব হবে। সেতুটি নজরে এসেছে বিশ্ববাসীর কাছে এর বৈশিষ্ট্যের কারণে। আসুন জেনে নিই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কিছু বিশ্বসেরা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ  ১৮.১০ মিটার। দ্বিতলবিশিষ্ট এই সেতুর ওপর থাকবে সড়ক ব্যবস্থা আর নিচে রেলপথ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই সেতুতে রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের সুবিধাও। এসব কারণে এ প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প।

বিশ্বে দীর্ঘতম সেতু হিসেবে ১১তম স্থান দখল করে নিয়েছে পদ্মা সেতু। আর খরস্রোতা নদীর ওপর তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জিং সেতু হিসেবে বিশ্বে পদ্মা সেতুর অবস্থান দ্বিতীয়। এ ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থানে রয়েছে খরস্রোতা অ্যামাজন নদীর সেতুটি।

পানির স্তর থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা প্রায় ৬০ ফুট। এই সেতুটি তৈরি করতে প্রতিটি পিলারের জন্য প্রয়োজন হয়েছে ৬টি পাইলিং। সম্পূর্ণ সেতুতে প্রয়োজন হয়েছে ৪২টি পিলার। এ হিসাবে সর্বমোট ৪২টি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পদ্মা সেতুর পাইলিং সংখ্যা ২৬৪টি।

এই পাইলিংয়ের গভীরতা ১২২ মিটার। ১২২ মিটার গভীরতায় ৩ মিটার ব্যাসের এসব পাইল পৃথিবীতে এবারই প্রথম। সেতু নির্মাণের ট্যামডাক্ট প্রযুক্তির ব্যবহারও পৃথিবীতে এবারই প্রথম, যা পদ্মা সেতু ছাড়া বিশ্বের আর কোনো সেতু নির্মাণে ব্যবহার করা হয়নি।

সেতুটিকে দীর্ঘসময় পদ্মার বুকে টিকিয়ে রাখার জন্য কংক্রিট এবং স্টিলের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছে, নির্দিষ্ট নিয়মে রুটিন করে এই সেতু রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই সেতুটি পদ্মার বুকে টিকে থাকবে ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত।

এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সর্বনিম্ন ১০০ বছরের স্থায়িত্বের জন্য পদ্মা সেতুকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। সে কারণে এ সেতুতে ব্যবহৃত হয়েছে বিশ্বের এযাবৎকালের সর্ব দীর্ঘ পাইল। ভূমিকম্প ক্ষতি রোধে ব্যবহৃত হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফিকশন পেন্ডুলাম বেয়ারিং।

আলোর ব্যবস্থা হিসেবে এই সেতুতে আছে সর্বমোট ৪১৫ টি ল্যাম্পপোস্ট। সর্বাধুনিক সব সুবিধা সংবলিত খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু তৈরি করতে সর্বমোট অর্থ ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। যার পুরোটাই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়েছে।

হেনরি কিসিঞ্জারের সেই ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দরবারে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত। এই উন্নয়নশীল দেশই আজ নিজস্ব অর্থায়নে অত্যাধুনিক সেতু নির্মাণের মতো এমন একটি মেগা প্রজেক্ট সফলভাবে বাস্তবায়নে সক্ষম করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বকে জানান দিল আমরাও পারি।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

জাতীয় বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image