• ঢাকা
  • রবিবার, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৬ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

ভোলার গ্যাসের নতুন কূপ ঘিরে সমৃদ্ধির হাতছানি


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:৫২ এএম
শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও ভোলার মানুষের ঘরে ঘরে
ভোলার গ্যাসের নতুন কূপ

নিউজ ডেস্ক:  ভোলা নর্থ-২ নামের নতুন এই গ্যাসকূপ দেখতে সেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন। ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের সদুর চর এলাকার দক্ষিণ চরপাতা গ্রামে ভোলা নর্থ-২ নামের নতুন এই গ্যাসকূপ দেখতে সেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছেন।

ভোলায় নতুন একটি গ্যাসকূপের সন্ধান মিলেছে। এতে গ্যাস নিয়ে ভোলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বাড়ছে। দেখা দিয়েছে, ব্যাপক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সম্ভাবনা। ভোলাবাসীর চাওয়া, ভোলার গ্যাসে ভোলাতেই শিল্পকারখানা নির্মাণ করা হোক। মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক গ্যাস, এ দাবিতে বৃহস্পতিবার ভোলা সদর রোডে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের সদুর চর এলাকার দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের পেডিখাতের বিলের মধ্যে মিলেছে নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভোলা নর্থ-২’। নতুন এই গ্যাসকূপ দেখতে সেখানে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ভিড় করছে।

ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস চাই আন্দোলন কমিটির সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, হালকা ও ভারী শিল্পকারখানা করার জন্য ভোলার মতো এমন উপযুক্ত এলাকা আর হয় না। তাই তাঁরা ভোলার গ্যাস দিয়ে ভোলায় শিল্পকারখানা নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন। ভোলায় পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে। একটি কূপ খনন করা হয়েছে।আগামী ফেব্রুয়ারিতে আরও একটি কূপ খননে হাত দেবে বাপেক্স।  ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে ভোলাসহ উপকূল রক্ষাকারী বন ধ্বংস হচ্ছে, কিন্তু ভোলাবাসী রান্নার জন্য গ্যাস পাচ্ছেন না।

ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলুল কাদের বলেন, ভোলায় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠার আদর্শ জায়গা। নদীপথে সর্বত্র যাওয়া যায়। সব ধরনের কৃষিপণ্য, প্রাণিসম্পদ, গ্যাস ও বিদ্যুতে সমৃদ্ধ অঞ্চল এটি। চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দর থেকে কাছের একটি জেলা। এখানে আটটি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। আরও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া যাচ্ছে। রিভার ক্রসিংয়ের কারণে এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অতএব শিল্প-কারখানা ভোলায় করতে হবে।

ভোলার তিন দিকে নদী, একদিকে বঙ্গোপসাগর। এখানে আছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার খাল। যাতে অনায়াসে ছোট-খাট জাহাজ চলাচল করে। ভোলা চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দর কাছাকাছি। ভোলার মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা লাইটার জাহাজগুলো মাল বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোলার মাটিতে শিল্প-কারখানা নির্মাণের জোরালো দাবি জানাচ্ছেন ভোলাবাসী। তাঁদের ভাষ্য, শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও ভোলার মানুষের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল বলেন, সরকারের ঘরে ঘরে গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ভোলা শহরে ৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসিয়েছে। দুই দফায় প্রায় সাত হাজার পরিবারের কাছ থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। ২ হাজার ৩৫০টি পরিবারকে গ্যাস–সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আরও ২০০ পরিবারকে সংযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ভোলা শহরের ব্যবসায়ী আবদুর রব, ব্যাংকার মহিববুর রহমান, গৃহিণী সানজিদা আক্তার ও শিক্ষক আবদুল হালিম জানিয়েছেন, যাঁরা অনেক কষ্ট করে ও অর্থ ব্যয় করে গ্যাস পাওয়ার আশায় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিতে পেরেছেন, যাঁরা গ্যাস পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, যাঁদের বাড়ির উঠানে গ্যাসের লাইন পৌঁছে গেছে, সরকার যেন তাঁদের গ্যাস পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এস এম বাহাউদ্দিন বলেন, ভোলায় সেলটেক সিরামিক কারখানা নির্মিত হয়েছে। এখানে উৎপাদিত পণ্য কারখানার নিজস্ব ঘাট থেকে জাহাজে করে নদীপথে দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরে যেতে পারে। সড়কপথে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় যাচ্ছে। ফেরির কারণে একটু বিলম্ব হচ্ছে, কিন্তু ঝামেলা নেই। ভোলার গ্যাস দিয়ে ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হলে উদ্যোক্তারা সুবিধা নিতে পারবেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোলার গ্যাসের নতুন কূপ ঘিরে সমৃদ্ধির হাতছানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁদের স্বপ্ন ভোলায় ইপিজেড তৈরি হোক। পাশাপাশি মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করার কারখানা, সার কারখানাসহ গ্যাসভিত্তিক কলকারখানা নির্মাণ হোক।

ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মমিন বলেন, ভোলায় একের পর এক গ্যাসকূপ পাওয়া যাচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসও মজুত আছে। এ অবস্থায় সরকার যেমন এলএনজি করে ভোলার গ্যাস ভোলার বাইরের জেলায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেমনই ঢাকায় ডিসি সম্মেলনে ভোলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনই ভোলায় শিল্পপতিরা এসে শিল্পকারখানার সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন।  ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে হলে আগে একাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা গড়ে তুলতে হবে। এ কারণে ভোলার বিসিককে আগে গ্যাস–সংযোগ দেওয়া জরুরি।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image