• ঢাকা
  • রবিবার, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ; ২৫ ফেরুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

লক্ষ্মীপুর জেলায় ঘুষে মিলে জাতীয় পরিচয়পত্র


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৩৯ পিএম
লক্ষ্মীপুর জেলায় ঘুষে মিলে জাতীয় পরিচয়পত্র
জাকির হোসেন পলাশ

নাজমুল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক : লক্ষ্মীপুর জেলায় আবেদনকারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার সময় জাকির হোসেন পলাশ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে তাকে আটক করেন। আটককৃত ব্যক্তি থানা হেফাজতে আছেন।

আটক পলাশ লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়নের জামিরতলি গ্রামের বাসিন্দা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মমিন উল্যাহর সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় সূত্র জানায় যায়, প্রায় ৭ মাস আগে লক্ষ্মীপুর সদরের মান্দারীর এক ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু এখনো কোনো কাজই হয়নি। একই সময় যারা দালাল ধরে আবেদন করেছেন তাদের এনআইডি হয়ে গেছে। দালালদের কাছ থেকে প্রতিটি কাজের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এরশাদ ৩ হাজার টাকা করে নেন।

টাকা পেলে তিনি দ্রুত কাজ করেন। না হলে তিনি কোনো কাজ করেন না। বুধবার দুপুরে আবেদনকারীর সঙ্গে টাকা লেনদেন করেন। এ সময় ১জন জনপ্রতিনিধি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এসে পলাশ নামের এক ব্যক্তি দালালকে আটক করে নিয়ে যায়।

সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের শিহাব বলেন, গত অক্টোবর মাসে আমি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে আসি। তখন পলাশ খুব সহজে এনআইডি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১৬ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু এনআইডি করে দেননি। পরে তিনি আমাকে জানান এখন তিনি এনআইডি করে দিতে পারবেন। এতে মঙ্গলবার তাকে ৫ হাজার টাকা দিয়েছি। বাকি টাকা দেওয়ার সময় পুলিশ নির্বাচন কার্যালয় ভবনের সামনে থেকে পলাশকে আটক করেছেন।

সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের মিরাজ হোসেন রাসেল বলেন, ৭ মাস আগে আমি আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো আমার এনআইডি কার্ড হয়নি। আমার সঙ্গে যারা আবেদন করেছে টাকা দেওয়ায় তারা আইডি কার্ড পেয়ে গেছেন। ঘটনাটি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। নির্বাচন কর্মকর্তা জানিয়েছে তার কার্যালয়ে দুর্নীতি হয় না। কিন্তু তার কার্যালয়ে কর্মরত এরশাদ প্রতিটি কাজের জন্য দালালদের মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা করে নেন।

সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মমিন উল্যাহ বলেন, দালালকে আটক করে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আটক পলাশ জানিয়েছেন প্রত্যেকটি কাজের জন্য তার কাছ থেকে এরশাদ ৩ হাজার টাকা করে নেয়। টাকা পেলে এরশাদ কাজগুলো দ্রুত করে দেন। আমি এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর এরশাদ হোসাইনকে একাধিকবার কল করেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ১জন আটক করে আনা হয়। তিনি এখন থানা হেফাজতে রয়েছেন। সদর থানায় এসে বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার শফিকুর রহমান বলেন, দালাল আটকের বিষয়টি আমি শুনেছি। ইউপি মেম্বার মমিন সদর নির্বাচন কার্যালয়ে কর্মরত এরশাদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image