• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২১ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৩ ফেরুয়ারী, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

কিশোরগঞ্জের হাওরে  দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা মানুষ 


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০১:২৮ পিএম
হাওরে  দিশেহারা মানুষ 
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

বিজয় কর রতন, মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ বাজারে প্রতিটি জিনিসের দামে ঊর্ধ্বগতি। মানুষের আয়ের সাথে মিল নেই ব্যয়ের হিসাবে। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের দর যে হারে বাড়ছে তা নিয়ে শঙ্কায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।ব্যয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হাওরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার সংখ্যা কমেছে। এমনকি বাজারের অনেক দোকানি মালামাল ভ্যানে করে পাঠাচ্ছে পাড়া-মহল্লার গলিতে। এরপরও ক্রেতা-বিক্রেতার কপালে চিন্তার ভাঁজ। 

মিঠামইনের ঘাগড়া বাজারের এক মুদি দোকানদার আরজু বলেন, আগের সাথে তুলনার করার আর কোনো সুযোগ নাই। আমরা এখানে দোকানদার হলেও অন্য সব প্রয়োজনীয় জিনিসের ক্রেতা। এখন বাজারের যে অবস্থা, এতে দোকান চালানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। 

আমাদের মালামাল তুলতে কিছু লোন (ঋণ) নিতে হয়েছে। এখন তা পরিশোধ করতে কষ্ট হচ্ছে। কিভাবে পোষাবো তা বুঝতে পারছি না। একই সুরে একই এলাকার চাল বিক্রেতা হোসেন বলেন, ‘ব্যবসা করার সুযোগ নাই। দুই-তিন দিন পর পর চালের দাম বাড়ছে। বাজার খুবই অস্থির হয়ে গেছে। কিন্তু এ কথা ক্রেতাদের বোঝানো যাচ্ছে না। 

গত মাসে যে লোক ২৯শ’ টাকায় চালের বস্তা নিয়েছে, এ মাসে তাকে ৩৪শ’ টাকা বললে সেতো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেই। আমরা বুঝতে পারছি না, কিভাবে ব্যবসা করবো। আয় কমে গেছে। কিন্তু প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়েছে। মনে হচ্ছে, করোনার মতো অনেককে নতুন বছরের শুরুতে গ্রামে ফিরে যেতে হবে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের টিসিবি তথ্যমতে, বিগত এক বছরের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে আটার। আটার দাম প্রতি কেজি ৩৩-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৬২-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এরপরে রয়েছে- ময়দা, চিনি, মসুর ডাল, সয়াবিন ও চাল। ময়দার দাম কেজি ৪৩-৪৫ টাকা থেকে ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে এখন ৭০-৭৫ টাকায়, চিনির দাম কেজি ৭৫-৮০ টাকা থেকে ৪৫ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে এখন ১১০-১১৫ টাকায়, মসুর ডালের দাম প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকা থেকে ২৬ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে এখন ১৩০-১৩৫ টাকায়, সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ১৪০-১৪৫ টাকা থেকে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে এখন ১৭০-১৭৫ টাকায় এবং চালের দাম কেজি ৫৮-৬৮ টাকা থেকে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ৬২-৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এদিকে শুধু কার্ডধারীরাই টিসিবি পণ্য পেয়ে থাকেন। ডিলারদের বরাদ্দপত্রের মাধ্যমে এ পণ্য দেওয়া হয়। একজন ভোক্তা ৫৫ টাকায় এক কেজি চিনি, ৬৫ টাকা করে দুই কেজি মসুর ডাল এবং ১১০ টাকা করে দুই লিটার সয়াবিন তেল পাবেন।

কিন্তু এ টিসিবি কার্ড পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছেন অনেকে। এ নিয়ে গোপদীঘি ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল বলেন, প্রথমে যখন টিসিবি কার্ড করেছিলো, তখন আমরা এ কার্ড করিনি। কারণ তখন বাজার এতোটা খারাপ হয়নি। কিন্তু এখন বাজারে গিয়ে কিছু কিনতে পারছি না। সব জিনিসের দাম এতো বেশি, পাঁচটা পণ্য কিনতে গিয়ে দুটা কিনে ঘরে ফিরতে হয়। এখন টিসিবি কার্ডের দরকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমরা আর কার্ড পাচ্ছি না।

এছাড়া বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা উপজেলা সদরে মেসে থাকেন। তারাও এ কার্ডের আওতায় না থাকায় সুলভে পণ্য পাচ্ছেন না।এ নিয়ে উপজেলার অফিস পাড়ার একটি মেসে থাকা ইমরান বলেন, ‘আমাদের মেসের খরচ অনেকে বেড়েছে। নতুন বছরে বাসা ভাড়াও বাড়বে। তাই এ কার্ড আমাদের জন্য করার সুযোগ থাকলে ভালো হতো।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image