• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৬ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ট্রেন টু বুসান; মানুষ কেবল একটি স্বার্থপর প্রানী


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ০২ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১:৪৩ পিএম
আলোচ্য বিষয় জম্বি ভাইরাস
মানুষ কেবল একটি স্বার্থপর প্রানী

রায়হান হাবিব দুলাল:   মুভির নাম ট্রেন টু বুসান। আলোচ্য বিষয় জম্বি ভাইরাস। তবে অনেকের মতেই জম্বি অ্যাকশন হরর ফিল্ম হলেও এটি একটি রোমাঞ্চকর মুভি যার একটি অর্থবহ শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। আর এই জম্বি হরর মুভিটি পরপর চারটি অ্যাওয়ার্ডয়ের জন্য মনোনীত হয়েছে। মুভিটি বিশ্বের একটি শক্তিশালী রূপক চিত্র হিসেবে কাজ করে, যেখানে দেখায় মানুষ কেবল একটি স্বার্থপর প্রাণী।

ইয়ন সেং– হ এর পরিচালনায় ১১৮ মিনিটের এ সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০ জুলাই ২০১৬ সালে।

আদরের একমাত্র ছোট্র মেয়ে সু-আনকে কাজের চাপে সময় দিতে পারেন না ফান্ড ম্যানেজার বাবা গং – ইয়ো। সু-আনের মায়ের সাথেও ডিভোর্স হয়ে গেছে তার বাবার। একারনে তার একমাত্র অবলম্বন বৃদ্ধা দাদী। স্কুলের পরে যতটুকু সময় থাকে তা অতিবাহিত হয় বাড়িতেই। বৃদ্ধা দাদী নাতনীকে মনে প্রানে ভালবাসলেও মাকে সে কোনভাবেই ভুলতে পারেনা। কাজের চাপে বাবা আর মেয়ের মধ্যে তৈরি হয় যোজন যোজন মাইল দূরত্ব।অভিমানে বিষাক্ত হয়ে উঠে কোমল ও দয়ালু হৃদয়। মেয়ের জন্মদিনে বাবা একটি গিফট নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। মেয়ে বাবার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। একই গিফট সে তার বাবার কাছ থেকে কিছুদিন আগেও পেয়েছে।

গং – ইয়ো লজ্জিত হয়ে মেয়ের কাছে জিজ্ঞেস করে তার আসলে কোন ধরণের গিফট প্রয়োজন বা পছন্দ। মেয়ের সোজা উত্তর তার মায়ের কাছে যাবে। এক্ষেত্রে বাবা অপারগ হলে সে নিজেই বুসান শহরে যাবে বলে জানান দেয়। বাবার সাথে ডিভোর্সের পরে মা বুসান শহরেই বসবাস করেন। বাবাকে খুব কষ্ট করে রাজি করিয়ে ফেলে সু-আন। মুলত জন্মদিনে মায়ের কাছে যাওয়ার আবদার রক্ষা করতেই বুসানের উদ্দেশে ট্রেনে রওনা হয় বাবা মেয়ে দুজনেই। এরই মধ্যে দেশে ছড়িয়ে পরে ভয়াবহ রোগ। যাকে অনেকে জম্বি ভাইরাস বলে সনাক্ত করে এবং সময়ের ব্যবধানে তা বড় বড় শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ সাধারণ মানুষের মত নয়। অনেকটাই সুস্থ মানুষের চেয়ে অস্বাভাবিক।আক্রান্ত ব্যক্তি যাকেই সামনে পাচ্ছে তার উপরই আক্রমন করে বসছে এবং কোনমতে আক্রান্ত ব্যক্তির দাঁতের স্পর্শ লাগা মানেই অন্যরা এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে বুসানগামি এই ট্রেনে আক্রান্ত একজন মাত্র লোক উঠে পড়ে আর একারনেই ফলাফল হয় অত্যন্ত ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। অদ্ভুত রোগে আক্রান্ত মানুষের কামড় থেকে নিমেষেই গণহারে লোক ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়। নেই কোন প্রতিষেধক, নেই কোন চিকিৎসা। মুলধন বলতে আছে শুধু নিজের একমাত্র জীবন। জীবন নিয়ে শুধু পালাতে হবে। আপনার কাছের বন্ধু, আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকেই আপনি নিরাপদ নন। জীবন-মরণের কঠিন এক পরীক্ষা। ট্রেন থেকে বের হলেও নিস্তার নেই। সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে এই বিপদজনক ভাইরাস।এভাবেই গল্পের প্লট সামনে এগিয়ে চলে।  

এখানে আরো একটি চরিত্র আছে মা ডং– সেও। যিনি একজন প্রেমময়, প্রতিরক্ষামূলক স্বামীর দায়িত্ব পালন করেছেন তার গর্ভবতী স্ত্রীর ।  সুহে এবং চাই ও সিক তারা বাস্কেটবল টিম এর সদস্য থাকে।তারা একজন আরেকজনকে অনেক পছন্দ করে যার কারণে শেষ পর্যন্ত একজন আরেকজনের সাথে থাকতে চায় এতে যা কিছুই ঘটুক না কেন ।

ইয়ং সুক নামে একটি চরিত্র থাকে , যে নিজের কথা ছাড়া আর কারো কথা ভাবেনা। এখানে তাকে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য বাকি মানুষদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে দেখা যায়।( ট্রেনের বগি দরজা বন্ধ করে দেয় অন্য মানুষ সহ যেন ভাইরাস সংক্রমিত মানুষরা তার পর্যন্ত আসতে না পারে)

এখানে, দুইজন বোনের (বয়স্ক) চরিত্র ও দেখা যায় যেখানে বড় বোন ছোট বোনকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয় । তাদের একজন আরেজনকে ছাড়া বেচেঁ থাকা অসম্ভব তাই ছোট বোনটা তার বোনের সাথে যেন শেষ পর্যন্ত থাকতে পারে তাই সেই বগির দরজা খুলে দেয় যেখানে কিছু স্বার্থপর মানুষরা ছিল এবং তারাও এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যায়। সে ভাবে সেই মানুষগুলো এগুলোরই প্রাপ্য।

সবশেষে অন্যতম চরিত্র পালন করে এক গৃহহীন লোক যে কিনা প্রথম থেকে সবার মৃত্যু নিয়ে কথা বলছিল কিন্তু পরে
দেখা যায় সেই লোকই নিজেই ভাইরাস এ আক্রান্ত হয়ে মারা যায় শুধুমাত্র সেই ছোট মেয়েটা আর গর্ভবতী মহিলাকে বাঁচাতে গিয়ে।

মা ডং জম্বি নামক এ ভাইরাসের সাথে প্রানপন যুদ্ধ করে। সর্বশেষ নিজের অর্ধাঙ্গিনীর জীবন বাঁচাতে সু-আন আর তার বাবা গং – ইয়োর সাথে তাকে নিরাপদ যোনে পাঠানোর চেষ্টা করেছে এবং এক্ষেত্রে সে নিজের জীবন অবলীলায় সাঙ্গ করেছেন। সর্বশেষে গং-ইয়ো নিজের মেয়ের জীবন বাচানোর জন্য জম্বি নামক ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যুদ্ধ করতে করতে আক্রান্ত হয়ে পরে নিজেও। মেয়েকে রেখে চলে যান চিরতরে। গল্পটা এখানেও শেষ হলে পারত কিন্তু না! মুলত টানটান উত্তেজনা শুরু হয় এখানেই। সেনাবাহিনীর লোক জম্বি ভেবে তাদের কে গুলি করবে এমন সময় সু-আন গান গেয়ে উঠে৷ এ কারনে সর্বশেষ তারা প্রানে বেঁচে যায়।

চীনা সমর বিজ্ঞানী সান জু (Sun Tzu) তাঁর পৃথিবী-বিখ্যাত বই ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’-এ লিখেছিলেন, জয়লাভের জন্য শত্রুকে সঠিকভাবে জানা সবচেয়ে আগে প্রয়োজন। এই যে করোনাভাইরাসের আকস্মিক আক্রমণ, আমরা আজও আমাদের এই ভয়াবহ শত্রুকে সম্পূর্ণ জানতে পারিনি।

উপরিউক্ত এ সিনেমা থেকে আমরা কী শিখতে পারি? আমাদের বর্তমান এ পৃথিবীও কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত। মানুষ যে কতটা স্বার্থপর হতে পারে তা আমরা এ সময়টাতে দেখেছি। পক্ষান্তরে মানুষ যে শ্রেষ্ঠ জীব সেটাও আমরা অবলোকন করেছি। অনেকেই নিজে ভালো থাকার জন্য সব রকম কাজ করেছেন। আবার অনেকেই নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। নিজের জন্য যারা সমস্ত কিছু ভাবে তারা সমাজে হয়ে উঠে স্বার্থপর মানুষ এবং শুধুই স্বার্থপর মানুষ। অন্যের ইস্ট করলে আমাদের আত্না শান্তি পায় এবং সুস্থ থাকে। যেমনটা সু-আনের বাবা জম্বি নামক ভাইরাসে নিশেষ হয়ে গেলে মানুষের সহানুভূতি লাভে সচেষ্ট।আমরা মানুষেরা চেষ্টা করলেই পৃথিবীকে সুন্দর করতে পারি আবার বিনষ্টও করতে পারি। আমরা কোন পথে হাটব সেটার উপর নির্ভর করছে বাকি সবকিছু। মানুষ আলোকিত হোক। সব মানুষেরা আবার মানুষ হয়ে উঠুক।

রায়হান হাবিব দুলাল
www.facebook.com/mrayhan.habib

ঢাকানিউজ২৪.কম /

বিনোদন বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image