• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২২ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০৭ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

রংপুর অঞ্চলে কমে আসছে পাট চাষাবাদ, কৃষি অধিদপ্তরের চাষ বাড়াতে পরিকল্পনা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বুধবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৪৪ পিএম
রংপুরে কমে আসছে
পাট চাষাবাদ

জুলফিকার জুয়েল, রংপুরঃ উত্তরের কৃষিখ্যাত এলাকা রংপুর অঞ্চলে অন্য ফসলের তুলনায় পাটে খরচ বেশি ও ফলন কম হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ কমেছে চাষিদের। একসময় প্রচুর পাট চাষ হলেও দিনে দিনে এ অঞ্চলে কমে এসেছে পাটের চাষ। আগে যেখানে মাঠের পর মাঠ দেখা যেত পাটের ছবি, এখন সেখানে দেখা মেলে অন্য কনো ফসলের।

কৃষকদের অভিযোগ, পাট চাষে খরচ বেশি হওয়ায় উন্নত বীজের অভাবের কারণে কম ফলন ও দাম ভাল না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও পাট পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে পারলে পাট চাষে আগ্রহ যেমন বাড়বে তেমনি সুফল পাবে চাষিরা। সেই লক্ষ নিয়ে আগামী বছরে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে পাটের খরচ কমিয়ে এনে পাট চাষে উৎসাহী করতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।

চাষিরা বলছেন, দেশে কয়েকটি জাত থাকলেও বর্তমানে চৈতালী তোষা ও রবি পাট-১ চাষ হয়ে থাকে। একর প্রতি জমিতে ৩০-৩৬ মণ পাট উৎপাদনের কথা থাকলেও নিম্নমানের বীজ হওয়ায় ২০-২৪ মণ পাট উৎপাদন হয়। এবারে বড়বড় পাটব্যবসায়ীরা পাট না কেনায় মৌসুমি পাট ব্যবসায়ীরা পাট তেমন কিনছে না। বর্তমানে পাটের মণ ২৫০০-২৮০০ টাকা। যা গতবছরের এই সময়ে ছিলো ৩৫০০-৪০০০ টাকা।

সদর উপজেলার পাট চাষি আবদুল ওহাব মিয়া জানান, আগে প্রচুর পাট চাষ করতাম। এখন আর আগের মতো দাম পাওয়া যায় না, উৎপাদন কমে গেছে। খরার কারণে পাট জাগ দেওয়ার সমস্যাসহ নানা কারণে পাট চাষ কমিয়ে দিয়েছি।

আরেক কৃষক ফরমান আলী বলেন, পাট নিড়ানি, পাট কাটতে এবং জাগ থেকে পাট ছিলাতে খরচ বেড়েছে। সেই তুলনায় হাটে পাটের দাম নাই। পাট কাঠি দিয়ে যতটুকু পুষিয়ে নেওয়া যায়।

মৌসুমি  পাট ব্যবসায়ী হাকিম হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি   জানান, বড়বড় পাট ব্যবসায়ীরা এখনও তেমন পাট কিনছেন না, ফলে আমরা কোন আশায় পাট কিনব। পাট কিনে ধরা খাওয়ার ভয়ে অনেকেই পাট কিনছি না।

এদিকে পাট অধিদপ্তর রংপুরের সহকারী পরিচালক সোলায়মান আলী ঢাকা নিউজকে জানান, পাটের বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে, সেই লক্ষে কাজ করছে পাট অধিদপ্তর, পাশাপাশি পাট চাষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান জানান, পাটের চাষ বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার, আগামী বছরে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে খরচ কমানোর চিন্তা করছে সরকার, সেই সাথে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে মোটিভেশন দেওয়া হচ্ছে, যাতে করে পাটের চাষ বৃদ্ধি পায়। সরকারি প্রণোদনাসহ উন্নত বীজ সরবরাহের মাধ্যমে আগামী বছর গুলোতে পাটের চাষ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী তিনি।

কৃষি বিভাগের তথ্যনুযায়ী, এবছর রংপুর জেলায় ৯ হাজার ২শ ৫৫ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। আর গত বছর ৯ হাজার ৭শ ৬৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

কৃষি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image