• ঢাকা
  • শনিবার, ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ০২ জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় রয়েছে: বিশ্বব্যাংক


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৮:৩৪ পিএম
শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাংক

নিউজ ডেস্ক:  করোনার ধাক্কা কাটিয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তা রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। এ উপলক্ষে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান অর্থনীতিবিদ হ্যান্স টিমার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর শিল্প উৎপাদন এবং সেবা খাত ঘুড়ে দাঁড়ানোয় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরে সরকারি হিসাবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক হিসাব দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে চলতি অর্থবছর (২০২১-২২) জিডিপির এই প্রবৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। যা পরবর্তী অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য মূল্যস্ফীতি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হ্যান্স টিমার সাংবাদিকদের বলেন, শ্রীলঙ্কার আর বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এক নয়। তারা উচ্চ ঋণের প্রভাবে ঝুঁকিতে পড়েছে। জিডিপির হিসাবে ৭০ শতাংশ ছাড়িয়েছে তাদের ঋণের পরিমাণ। বাংলাদেশের বৈদেশিক এবং অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের পরিমাণ এখনো নিম্ন ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা থেকে কী ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদশে এক্ষেত্রে তিনটি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তার প্রথমটি হলো, উচ্চ সুদের ঋণ। শ্রীলঙ্কা বিশ্বব্যাংকের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে কম ঋণ নিয়ে উচ্চ সুদের বাণিজ্যিক ঋণে ঝুঁকেছে। এতে করে তাদের দায় বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ এখনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করছে। এক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণে সাবধান হতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো রিজার্ভের ব্যবহার। বাংলাদেশে এখন যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে তাতে সাত থেকে আট মাসের আমদানি দায় মেটানো সম্ভব। তাই রিজার্ভ ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। তৃতীয়টি হলো সরকারি ব্যয়। শ্রীলঙ্কা অনেক প্রকল্পে সরকারি ব্যয় করেছে যা থেকে তারা কোন রিটার্ন পায়নি। এজন্য সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে দূরে থাকতে হবে।

প্রতিবেদনে প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিম্বন উল্লেখ করেছেন, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করায় দেশের দারিদ্র্য হার ২০২০ সালে সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে কমে ১১ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে। সামনের দিকে এগিয়ে যেতে মূল্যস্ফীতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। সেইসঙ্গে দেশের টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য ইউক্রেনের যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাবগুলো পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিতে ধাক্কা লাগতে পারে। এবারের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। যা আগের পূর্বাভাস থেকে এক শতাংশ কম। শ্রীলঙ্কায় গত বছর সাড়ে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবার ২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসবে। এ বছর ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৮ শতাংশ; যা পরের বছর ৭ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। এছাড়া পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, নেপালে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ভুটানের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

অর্থনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image