• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

বিরলে গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় স্বামীসহ শশুর-শ্বাশুরী গ্রেফতার


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ০৭ আগষ্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:৩৯ পিএম
গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া করার ঘটনা
নির্যাতিত গৃহবধূ রেশমা খাতুন

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরলে গৃহবধুর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে যৌতুক লোভী স্বামী। নির্যাতনের শিকার গৃহবধু বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

৭ আগষ্ট শনিবার দিবাগত রাতে বিরল উপজেলার ১০নং রাণীপুকুর ইউনিয়নের কাজিপাড়া বিলাইমারি গ্রামে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় যৌতুক লোভী স্বামী মজিবর ও শশুড় হাসেম আলীকে গ্রেফতার করেছে বিরল থানা পুলিশ।

স্হানীয় সুত্রে জানা যায় প্রায় ৮ বছর আগে গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার মধ্যবাগুরিয়া গ্রামের বালাসীঘাট এলাকার মৃতঃ আছমত আলীর মেয়ে রেশমা খাতুনের (২৫) সাথে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১০ নং রাণীপুকুর ইউনিয়নের কাজিপাড়া বিলাইমারি গ্রামের হাসিম আলীর ছেলে মজিবর রহমানর (২৮) এর সাথে পারিবারিকভাব বিয়ে হয়। তাদের একটি ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে।

নির্যাতিত গৃহবধূ রেশমা খাতুন জানান, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে টাকাও নিয়েছিল। তারপরও আরও ১ লাখ টাকা যৌতুকের দাবি করে। যৌতুকের দাবি পুরন করতে অপারগত প্রকাশ করায় বিয়ের পর থেকেই শশুর-শ্বাশুরীর ইন্ধনে কারনে অকারনে আমাকে নির্যাতন করত যৌতুক লোভী স্বামী মজিবুর। নির্যাতনের বিষয়ে একাধিকবার এলাকায় শালিস দরবারও হয়েছিল। মাত্রারিক্ত নির্যাতনের কারনে ওই গৃহবধু রেশমা গাইবান্ধায় তাঁর বাবার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছিল। সম্প্রতি রেশমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসার পর আবারও যৌতুকের চাপ প্রয়োগ করতে থাকে স্বামী ও পরিবারের লোকজন। শনিবার দিবাগত রাতে আবার ও রেশমাকে যৌতুক বাবদ ১ লাখ টাকার জন্য চাপ দিলে রেশমা টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করায় শশুড়-শাশুড়ীর ইন্দনে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন।

নির্যাতিতা রেশমা খাতুন আরও জানান, শনিবার রাত ১ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত স্বামী মজিবর রহমান রেশমার মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে শরিলের বিভিন্ন জায়গায় মারডাং করে ফুলা কালসিরা জখম করে। পরে রেশমার হাত পা খাটের সাথে বেধে বুকের উপর বসে মাথার সামনের অংশের চুল কেটে দেয় লজ্জায় যেন বাড়ির বাইরে না যেতে পারে। আর নির্যাতনের বিষয়টি যেন এলাকার কেউ বুঝতে না পারে।  নির্যাতনের শিকার রেশমা খাতুন সকালে ওই এলাকার ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানকে  নির্যাতনের ঘটনা অবহিত করে।  পরে  স্হানীয় নজরুল ইসলাম তাকে চিকিৎসার জন্য বিরল উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ ফখরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়ে নির্যাতিতার খোজ খবর নেই। এ বিষয়ে নির্যাতিতা বাদী হয়ে স্বামী, শশুর-শ্বাশুরীর বিরুদ্ধে বিরল থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-০৫, তাং-০৭/০৮/২০২২ আসামী ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / মোঃআব্দুস সাওার/কেএন

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image