• ঢাকা
  • বুধবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৯ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

জলঢাকায় ইরি বোরো ধান চাষে বাড়তি খরচ,দূচিন্তায় কৃষকরা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৫:৩৬ পিএম
জলঢাকায় ইরি বোরো ধান চাষে বাড়তি খরচ
দূচিন্তায় কৃষক

জলঢাকা, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ বিদ্যুৎ চালিত অগভীর সেচযন্ত্রের মালিক রহমত আলী বলেন, গত ইরি বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিবিঘা জমিতে পানি খরচ বাবদ ১ হাজার ৬৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ বছরের বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় ২ হাজার ৩১০ টাকা নির্ধারণ করেছি।

বৃহস্পতিবার  নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের ইরি বোরো ধান আবাদের চিত্র।

বিগত বছরগুলোতে এই চাষাবাদের সময় কৃষকের মুখে হাসি দেখা গেলেও এ বছর রয়েছে মলিন মুখে। বীজ, বিদ্যুত, ডিজেল, কিটনাশক ও শ্রমিকসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর বোরো আবাদের অতিরিক্ত খরচে চরম হিমসিম খাচ্ছেন তারা। চাষাবাদের খরচ জোগাতে অনেকেই ঋণের ফাঁদে পড়ছেন। আর সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছেন দরিদ্র কৃষকরা।উপজেলায় বর্তমানে চলছে ইরি বোরো ধান আবাদের ভরা মৌসুম।

জমিতে ধানের চারা রোপন শেষে এখন পরিচর্যাসহ সার-কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে এবছরে ফসল উৎপাদনে বাড়তি খরচে অর্থ সংকট ও দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে কৃষকদের কপালে পড়ছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর জলঢাকায় ইরি বোরো আবাদে কৃষি পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচের হিসাব গুণছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিযে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণের জন্য পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে জমি তৈরি করতে হয়েছে। এছাড়াও ডিজেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা দামে কিনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে বিদ্যুতের দামও। বর্তমানে প্রতিবস্তা ইউরিয়া সার ১১শ থেকে ১২শ টাকা, টিএসপি ১১শ টাকা, এমওপি ৭৫০ টাকা, দস্তা প্রতিকেজি ২শ থেকে ৩শ টাকা। পোকা দমনে কীটনাশক ছহি ১০০ মিলি ১৪৫ টাকা, ভিরতাকো ১০ গ্রাম ১৭০ টাকা, মাইকোসাল প্রতিকেজি ২০০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। গত কয়েক বছর এসব পণ্যের দাম কম ছিল । তাছাড়া  প্রতিকেজি বীজ ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় কিনেছেন কৃষকরা। এছাড়া ধানের চারা  রোপনের সময় এবং বর্তমান পরিচর্যায় শ্রমিকের মজুরী ৩০০ টাকা দিতে হচ্ছে। তবে কাটা-মাড়াইয়ের সময় শ্রমিক সংকটে দেখা দিলে তাদের মজুরী গুণতে হবে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।  

উপজেলা কৃষি সসম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ইরি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে।

এ বছরে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা  হচ্ছে ।  তাছারা জমিতে সেচ দিতে বিদ্যুৎ চালিত গভীর সেচযন্ত্র ২৫০ টি, অগভীর ৩ হাজার ৫০টি, ডিজেল চালিত অগভীর ২ হাজার ৯৭০ টি রয়েছে এসব যন্ত্র দিয়ে বোরো চাষিদের সেচের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকায় কৃষক মানিক জানান, বিগত বছর বোরো ধান আবাদে যে খরচ হয়েছিল  তা বেড়ে যাওয়ায়  বর্তমানেচলতি মৌসুমে বোরো ধান আবাদের  বাড়তি খরচ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। গত বছরে বিদ্যুৎ চালিত সেচযন্ত্র মালিককে হেক্টর প্রতি ভাড়া দিয়েছিলেন ১২ হাজার ৩০০ টাকা। কিন্তু এ বছর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেটি মেশিন মালিক ১৭ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

 তিনি আরও বলেন, শুধু বিদ্যুতের দামই নয়, সম্প্রতি বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের দামও বেড়েছে অনেক। বালাগ্রাম চৌপুথী এলাকার কৃষক আমির হোসেন বলেন, গত মৌসুমে কেনা ৬৬ টাকার ডিজেল বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ১১২ টাকা পাইকারী দরে। আবহাওয়ার কারণে ১ বিঘা ধানের জমিতে সেচ দিতে কখনো ৩২ লিটার কখনো ৪৫-৫০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। তাই অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে উৎপাদনে। সে তুলনায় আমরা লাভবান হচ্ছি না।  

উপজেলা  কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহম্মেদ  বলেন, সম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব কৃষি ক্ষেত্রেও পড়েছে।তাই সেচ কাজে কৃষকের খরচ বাড়বে।  এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ফসল উৎপাদন  বাড়াতে এবং খরচ কমাতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইরি বোরো আবাদে কৃষকদের লাভবান করতে ইতোমধ্যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তুলে লাভবান হবেন।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image