• ঢাকা
  • সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২৮ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর মহাসড়ক দখল করে চলছে বালুর ব্যবসা


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:১৩ পিএম
ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর
মহাসড়ক দখল করে চলছে বালুর ব্যবসা

মো. নজরুল ইসলাম, ময়মসনসিংহ: নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নির্মাণকাজ হ্রাস পাওয়ায় নিয়মিত লাল ও মোটা বালু ব্যবসায়ীরা বালুর মোকাম হিসেবে বেছে নিয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। 

ময়মনসিংহ থেকে ভালুকার সিডষ্টোর পর্যন্ত চারলেন মহাসড়ক দখল করে অবৈধভাবে চলছে জমজমাট বালুর ব্যবসা। নিয়ম না মেনেই খোলা ট্রাকে পরিবহণ করা হচ্ছে বালু। অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মহাসড়ক।

সরজমিনে দেখা যায়, রাস্তার পূর্বেপাশে ময়মনসিংহের দিগারকান্দা থেকে ত্রিশালের কাজির শিমলা পর্যন্ত চারলেন রাস্তার উপর শত শত ট্রাক অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে বালু উঠা-নামা করতে রবিবার বিকেলেও দেখা যায়। রাস্তার অনেকাংশের অবৈধভাবে বালু স্তুপাকৃত করে রেখে দিয়েছে। রাস্তার ওপর পড়ে থাকা এসব বালুর কারণে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। বিশেষ করে দু’চাকার মোটর সাইকেল এই রাস্তায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মহাসড়ক। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে গত এক বছরে
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় অর্ধশত মানুষ মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দিগারকান্দা থেকে সিডষ্টোর পর্যন্ত রাস্তা দখল করে অবৈধ বালুর ব্যবসা করছে একটি অসাধু চক্র। ফলে মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা। কয়েকবার অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হলেও কোনোভাবেই থামছে না এ কর্মকান্ড।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের পাঁচ থেকে ১০ ফুট জায়গা দখল করে বালু বেচা-কেনা করছে কয়েকটি মহল। এমনকি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ইট-বালু রেখে সাব-ঠিকাদারির ব্যবসাও চালাচ্ছে চক্রটি। ফলে রাস্তার উপর দিয়ে হাঁটতে গিয়েও দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। ইতোমধ্যে সড়কের ওই সব স্থানে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।

অপরদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ত্রিশালের কালিরবাজার ও বালিপাড়া সড়কে নিয়মের তোয়াক্কা না করে খোলা ট্রাকে বালু পরিবহণ করা হচ্ছে। বালু বাতাসে
উড়ে মোটরসাইকেল আরোহী ও অন্য পরিবহণের যাত্রীদের চোখে যাচ্ছে এতে ঘটছে দুর্ঘটনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ট্রাকচালক বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই কিছু বালু মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। আর বাকি অংশ বালু আসল মালিকের কাছে
পৌঁছে দেন। এভাবে গোপনে জমা করা বালু পরে বিক্রি করে দেন।

মোটরসাইকেল চালক আব্দুল মালেক বলেন, রাস্তায় বালু রাখা ও খোলা ট্রাকে বালু পরিবহণের কারণে মোটরসাইকেল চলাচলে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যখন
একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে ওভারটেক করে, তখন বালুর উপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়। অপরদিকে খোলা ট্রাকে বালু নেওয়ার কারণে বালু উড়ে চোখে আসে। এতে মোটরসাইকেল চালকদের বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়তে হয়।

স্থানীয় পথচারী আব্দুল বারেক বলেন, রাস্তায় বালু রাখার কারণে গাড়িগুলোর পাশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আমাদের চলতে হয়। যদিও মানুষের চলার কথা ফুটপাত দিয়ে। কিন্তু মানুষকে চলতে হচ্ছে রাস্তার মাঝখান দিয়ে।

সড়ক ও জনপদ ময়মনসিংহ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে.বি.এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর বালুর ব্যবসার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও
মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। আবারও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও রাস্তা থেকে বালু অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো
হয়েছে। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা জরুরি। আমাদের লোকবল কম। প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া আমাদের একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।

 ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, অবৈধ বালুর ব্যবসা বন্ধে ইতিপূর্বেও আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা  করেছি। আর খোলা ট্রাকে বালু বহন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এর আগে খোলা ট্রাকে বালু বহন করায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। হাইওয়ে পুলিশ এ ব্যাপরটা আরও গুরুত্বসহকারে দেখলে এটা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত বালুবহন বন্ধে মহাসড়কে ওজন স্কেল বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাছুম আহাম্মেদ ভূঁঞা। তিনি বলেন, গাড়ির  ওভারলোডের কারণে রাস্তায় সমস্যা হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা হচ্ছে। তারপরও বাড়তি মুনাফার জন্য পুলিশকে ম্যানেজ করে এ কাজ করছেন বলে স্বীকার
করেন ট্রাক মিকরা।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে বালুর স্তুপ ঠেকানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত বালুবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে খানাখন্দসহ বেহাল দশা কেওয়াটখালি এলাকার মহাসড়কের।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ওভারলোডের কারণে কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তার ক্ষতি হয়। খানাখন্দের কারণে
দুর্ঘটনাও ঘটে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

অপরাধ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image