• ঢাকা
  • শনিবার, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৩ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

শেরপুরে বন্য হাতির আক্রমণে কৃষকের মৃত্য


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ০২ মে, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৪:৩৫ পিএম
শেরপুরে কৃষকের মৃত্য
বন্য হাতি

এজেএম আহছানুজ্জামান ফিরোজ, শেরপুর প্রতিনিধি: ক্ষেতের ফসল রক্ষা করতে গিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদীতে বন্য হাতির আক্রমণে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সীমান্তবর্তী রাণীশিমূল ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামের টিলাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল হামিদ (৫০) ওই এলাকার ছামেদ আলীর ছেলে।

এ নিয়ে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে বন্য হাতির আক্রমণে তিন কৃষক নিহত হলেন ।

এর আগে হাতির আক্রমণে গত ১৪ এপ্রিল শ্রীবরদীর ঝুলগাঁও এলাকায় আব্দুল করিম (৩৫) এবং ২৬ এপ্রিল নালিতাবাড়ি উপজেলার পুর্ব সমশ্চুড়া গ্রামের বিজয় সাংমা (৫২) নামে আরো দুই কৃষক প্রাণ হারান।

এই কৃষকরা সবাই বন্য হাতির কবল থেকে আধপাকা বোরো ধানের  ক্ষেত রক্ষা করতে গিয়ে  হাতির কবলে পড়ে নিহত হন।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় শ্রীবরদী সীমান্তে বন্যহাতির ৪০/৫০টির একটি দল শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ী রেঞ্জ এলাকার হালুয়াহাটি গ্রামের বোরো ধানখেতে নেমে আসে এবং পাকা ধান বিনষ্ট করে। এ সময় ধানখেত বাঁচাতে এলাকাবাসী হাতি তাড়াতে লাঠি-মশাল নিয়ে হাতির দলকে ধাওয়া করে। 

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি হাতি শুর দিয়ে পেচিয়ে আব্দুল হামিদকে আছাড় মারে। এতে হাতিবর টিলাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হামিদকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মো:  নোমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুর হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ধানক্ষেতে বন্যহাতির দল নেমে এলে হাতি তাড়াতে গিয়ে হাতির আক্রমণে কৃষক আব্দুল হামিদের মৃত্যু ঘটেছে।

বন বিভাগের বালিজুড়ীর রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বন বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

তিনি আরো বলেন, কিন্তু হাতির দলকে তাড়াতে গিয়ে মানুষ মৃত্যুর মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে পাহাড়ি জনপদে বনবিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যাতে হাতির দলকে উত্যক্ত করা না হয়। এজন্য এলাকায় এলাকায় এলিফেন্ট রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বনবিভাগের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারি নিয়মানুযায়ী আবেদনের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফতেখার ইউনুস বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক ও সচেতন করা হয়েছে, তবুও স্থানীয় লোকজন জীবন বাজি রেখে হাতি তাড়ানোর জন্য যায়। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তা করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা  হবে।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

আরো পড়ুন

banner image
banner image