• ঢাকা
  • শুক্রবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ; ২০ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image

জনদূর্ভোগের জন্য আ'লীগ সরকার দায়ী: গণফোরাম


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ০৩:৫৬ পিএম
জনদূর্ভোগের জন্য আ'লীগ সরকার দায়ী: গণফোরাম
গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভা

ডেস্ক রিপোর্টার: গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে জননেতা মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, সারাজীবন দেখছি নির্বাচন যখন ঘনিয়ে আসে কেউ কেউ রাজনৈতিক জোট বা মোর্চার জন্য হুলস্থুল শুরু করে। নির্বাচন সামনে রেখে জোট হবে কিন্তু বর্তমান দখলদার সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হলে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন সুযোগ নেই।

তাই আমরা গণফোরাম নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনতার ঐক্য গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকবো। দেশের সর্বত্র এই অবৈধ সরকারের মনগড়া দখলদারিত্ব, বিচারহীনতা ও গণতন্ত্রহীনতায় একটি অস্থিতিশীল বিশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে জনগণ দিন অতিবাহিত করছে। রাষ্ট্রের এই ভঙ্গুর অবস্থা ও সীমাহীন জনগূর্ভোগের জন্য অবৈধভাবে রাতের ভোটে ক্ষমতা দখল করা আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী।

মোস্তফা মোহসীন মন্টু তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন- গণফোরামের মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্য একটি সেটি হচ্ছে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ নিরপেক্ষভাবে করার জন্য অবশ্যই নির্বাচনকালীন সরকার সেটি জাতীয় বা তত্ত্বাবধায়ক কিংবা তদারকি সরকার যে নামেই হোক গঠন করতে হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এই সেন্টিমেন্টের সঙ্গে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে।

১৪ মে (শনিবার) সকাল ১০টায় টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী।
নিম্নে তার বক্তব্য সংযুক্ত করা হলোঃ-

সুপ্রিয় সহকর্মী
আপনাদের সকলকে জানাই পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গণফোরাম এর আজকের এই কেন্দ্রীয় কমিটির সভা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। একদিকে অনিশ্চিত রাজনৈতিক পটভূমি এবং পবিত্র সংবিধানকে ভূলণ্ঠিত করে জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সহ মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও চেতনাকে ধূলায় মিশিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন দখলবাজ সরকার ৩০ লক্ষ শহীদের স্বপ্নকে পদদলিত করে একটি ফ্যাসিষ্ট ও ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তথাকথিত উন্নয়নের আড়ালে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় আজ্ঞাবহ এবং যেন তেন ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার সহায়ক শক্তিতে পরিণত করেছে। গুটিকয়েক ব্যক্তি, পরিবার ও সরকারী/বেসরকারী পদ পদবী ধারী ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠন, পাচার ও ভোগ বিলাসের উম্মাদনায় জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণফোরাম মনে করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ এই মাফিয়া গোষ্ঠির উপর একেবারেই ত্যক্ত বিরক্ত। যত দ্রুত সম্ভব দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস ও আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই, সে লক্ষেই গণফোরাম ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গণফোরাম একটি উদার প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক দল হিসাবে সংগঠনকে জেলা ও উপজেলায় দ্রুততম সময়ে বিস্তৃতি ঘটানোর লক্ষে আজকের সভায় কর্মপন্থা গ্রহন করতে হবে, দেশের বর্তমান চলমান সংকট উত্তরণে আমাদেরকে তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিয়াশীল ভূমিকা রাখতে হবে, জাতীয় জীবনের যে কোন ইতিবাচক পরিবর্তনেও আমাদেরকে অংশীদার থাকতে হবে। আমরা অভিজ্ঞতার আলোকে মনে করি দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ্য ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় সেইলক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবীতে রাজপথের আন্দোলনে শরীক থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে। একইভাবে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় ১৯৭২ এর সংবিধানকে সমুন্নত রেখে মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার যথাযথভাবে বাস্তবায়নে গণফোরাম সুদৃঢ় ভূমিকা রাখবে।

নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন- ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভবনা নাই। বিশেষভাবে বলতে চাই এই কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ নাই। অতএম আপনাদের ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে কথা না বলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর বা পদত্যাগ নিয়ে ভাবুন। দেশের জনগণ আপনাদের বিশ্বাস করে না। তাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে কোন নির্বাচনে দেশের জনগণের অংশগ্রহণের প্রশ্নই আসে না।

আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট একেএম জগলুল হায়দার আফ্রিক, এডভোকেট মহসীন রশিদ, এডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য এডভোকেট আনসার খান, এডভোকেট ফজলুল হক সরকার, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খান সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রওশন ইয়াজদানী, মেঘনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুর রউফ, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা হাসান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট একেএম রায়হান উদ্দিন, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, শিক্ষা সম্পাদক অধ্যাপক বরুন ভট্টাচার্য্য, যুব ক্রীড়া সম্পাদক তাজুল ইসলাম, গবেষনা, পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষন সম্পাদক আজিজুর রহমান ভূঁইয়া মজনু সহ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ।

সভা সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লতিফুল বারী হামিম।

ঢাকানিউজ২৪.কম / কেএন

রাজনীতি বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ

banner image
banner image