• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ; ১৮ জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • সরকারি নিবন্ধন নং ৬৮

Advertise your products here

banner image
website logo

পথশিশুদের মধ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার


ঢাকানিউজ২৪.কম ; প্রকাশিত: শনিবার, ২০ মে, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ০৯:২৫ পিএম
মাদকসেবী পরিবার, সমাজ, দেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার

গোলাম মোস্তফা

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পথশিশুদের মধ্যে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, বিশেষ করে আঠা হিসাবে ব্যবহৃত একটি পদার্থ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের পথশিশুরা বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত, আর তাদের মধ্যে ২১ শতাংশ মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে (সূত্র অনুসারে)।

সন্ধ্যায় বুয়েট ক্যাম্পাসের  পাশে পলাশীর মোড়ে বসে কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রতিদিনের মতোই চা চক্র চলছিল আমাদের।হটাৎ দেখতে পেলাম রাস্তার মধ্যে কুড়ি বছরের একটি লোক পলিথিনের ব্যাগ থেকে নিশ্বাস নিচ্ছে।কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেসা করলাম আপনি কি করতেছেন? । সে বলল ড্যান্ডি নেশা টানতেছি।যদিও আমি অনেক নেশার  নাম শুনেছি বাট ড্যান্ডি নেশার সাথে তেমন পরিচিত ছিলাম না।আামার মিত্র সাদ্দাম হোসেন বলল

ড্যান্ডি' হল দ্রবণের বাষ্প ছাড়া আর কিছুই নয় যা চামড়া, রাবার ইত্যাদি জিনিস মেরামত বা যোগ করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। একটি দ্রবণ প্যাকেটের কাভার খোলার পর এটি একটি পলিথিনের ব্যাগে রাখা হয়। এবং তারপরে দ্রবণের বাষ্প নিঃশ্বাস নেওয়া এবং নিঃশ্বাস ফেলা পর্যন্ত নেওয়া হয় যতক্ষণ না এটি নিঃশেষ হয়। আমি তাকে বললাম এটি খাওয়ার পর পর আপনার অনূভুতি কেমন,সে বলল একটি ভিন্ন রকম অনুভূতি পাওয়া যায়। এই ধরনের নেশায় সাধারণত দেহের মধ্যে  হ্যালুসিনেশন সৃষ্টি করে যা  ক্ষুধার যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে ।

পথশিশুরা এই পদার্থ ব্যবহার বা অপব্যবহার করলে ক্ষুধা নিবারণ হয়।কিভাবে এটার সাথে তুমি  পরিচিত হলে?আগে আমি বন্ধুদের কাছ থেকে সিগারেট সংগ্রহ করে সিগারেট খাই। একপর্যায়ে আমি গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ি।

আমি আবর্জনা সংগ্রহ করে যা আয় করি, তার কিছু আমি আমার খাবারের জন্য ব্যয় করি এবং বাকিটা দিয়ে আমি ড্যান্ডি কিনি... আমি সারাদিন ঘুমাতে ভালোবাসি," মুখে একটি বিদ্রুপের হাসি নিয়ে তিনি বললেন।একটি গবেষণায় দেখা গেছে

সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর কিশোর-কিশোরীরা এবং সাধারণত যারা মটর ডিপার্টমেন্টের সাথে জড়িত তারা এই নেশায় বেশি আসক্ত থাকে।। এমনকি মধ্যবিত্তের কিছু কিশোর-কিশোরীও তাদের স্বাস্থ্যের উপর এর খারাপ প্রভাব না জেনেই সম্পূরক ওষুধ হিসেবে দ্রবণ গ্রহণ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করতে পারে এবং লিভার এবং ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষতি করতে পারে।

দেশের মধ্যে দিন দিন এটা বেড়েই চলেছে এবং সিগারেটের মতো সহজলভ্য হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ হলেও সেটিকে আমরা নিষিদ্ধ বস্তু হিসেবে মানতে পারি না। তরুণসমাজ মাদকসেবনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। বিন্ধু বিন্ধু জলে যেমন সিন্ধু হয় তেমনি অল্প অল্প সেবন করতে করতে একসময় বড় মাদকসেবীতে পরিণত হয়। তখন ওই মাদকসেবী পরিবার, সমাজ, দেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি পাড়া- মহল্লায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রেতাকে খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আসুন আমরা মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত দেশ গড়ি।

লেখক: গোলাম মোস্তফা, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ।

ঢাকানিউজ২৪.কম /

আরো পড়ুন

banner image
banner image